তফসিল-২ — সেইফটি কমিটির কার্যপরিধি, দায়-দায়িত্ব, এখতিয়ার, ইত্যাদি
সেইফটি কমিটির কার্যপরিধি, দায়-দায়িত্ব, এখতিয়ার, ইত্যাদি
[বিধি ৫৪ দ্রষ্টব্য]
(১) সেইফটি কমিটির কার্যপরিধি:
(ক) কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠান এবং উহাতে নিয়োজিত শ্রমিকসহ সকলের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে আইন ও প্রচলিত অন্যান্য বিধি-বিধানের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট মালিক বা কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করা;
(খ) এই তফসিল অনুযায়ী প্রণীত চেক-লিস্ট অনুসারে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি বা ঘাটতিসমূহ চিহ্নিত করা এবং উহা দূরীকরণে মালিক বা কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করা;
(গ) কর্মস্থল ও কর্মরত শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধানে সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা, মালিক বা কর্তৃপক্ষ বরাবর সুপারিশ প্রদান এবং শ্রমিক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এতৎবিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা;
(ঘ) এই বিধিমালার চতুর্থ অধ্যায়ে বর্ণিত অগ্নি নির্বাপণ, জরুরি উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা দল গঠন এবং প্রশিক্ষণ ও মহড়া পরিচালনা করা;
(ঙ) আইনের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধান ও কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও মনিটর বা নিরীক্ষণ, রিপোর্ট সংরক্ষণ ও প্রয়োজনে, সময় সময়, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিদর্শনের জন্য প্রস্তুত রাখা;
(চ) পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে প্রাপ্ত প্রশিক্ষণের বাস্তবায়ন করা;
(ছ) কোনো শিল্প বিরোধ উত্থাপন না করা এবং শিল্প বিরোধ সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে পক্ষ না হওয়া।
(২) সেইফটি কমিটির কার্যাবলি ও দায়-দায়িত্ব:
(ক) কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানে আইনের ষষ্ঠ অধ্যায়ে বর্ণিত নিরাপত্তা এবং সপ্তম অধ্যায়ে বর্ণিত নিরাপত্তা সম্পর্কে বিশেষ বিধান ও সংশ্লিষ্ট বিধিসমূহের যথাযথ প্রতিপালন নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে স্বীয় দায়িত্বের বর্ণনাসহ একটি গাইডলাইন বা নির্দেশনা বহি প্রস্তুত করিবে;
(খ) দফা (ক) এর অধীন প্রণীত গাইড লাইনে নিম্নবর্ণিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে, যথা:—
(অ) প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা:
(১) ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিতকরণ (যেমন-ভবনের অংশবিশেষ, সিঁড়ি, প্রাঙ্গন, বৈদ্যুতিক লাইন, মেশিন, ইত্যাদি);
(২) ঝুঁকির প্রকৃতি (যেমন-ফাটল, কর্মকালীন সময়ে তালাবদ্ধ গেইট, বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক সংযোগ, ইত্যাদি);
(৩) ঝুঁকির মাত্রা বা স্তর (যেমন-উচ্চ/মধ্যম/সাধারণ/সন্তোষজনক নহে);
(৪) ভবিষ্য করণীয় নির্ধারণ (যেমন-ব্যবহার নিষিদ্ধ, তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত-সংস্কার, বন্ধকরণ);
(৫) ঝুঁকির প্রকৃতি ও স্তরভেদে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পদ্ধতি নির্ধারণ; এবং
(৬) কারিগরি ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিরূপণ;
(গ) যন্ত্রপাতি ও কর্মপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা:
(অ) যন্ত্রপাতি স্থাপনা সংক্রান্ত দিকসমূহ পরীক্ষা;
(আ) যন্ত্রপাতি পরিচালনা পদ্ধতি যাচাই;
(ই) ত্রুটিপূর্ণ পরিচালনার ক্ষেত্রে করণীয় নির্ধারণ;
(ঈ) শ্রমিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রী ও সুরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা; এবং
(ই) ত্রুটিপূর্ণ পরিচালনার দায়-দায়িত্ব নিরূপণ ও প্রস্তাবনা বা সুপারিশ;
(ঘ) বিপজ্জনক ধোঁয়া, বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থের ব্যবস্থাপনা:
(অ) বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থের প্রকৃতি নিরূপণ;
(আ) রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা;
(ই) ব্যবহারিক ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নিরূপণ;
(ঈ) ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা;
(উ) পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনা; এবং
(ঊ) নির্দেশনা ও পরামর্শ;
(ঙ) অগ্নিকাণ্ডজনিত ব্যবস্থাপনা:
(অ) অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য উৎস নির্ণয়;
(আ) প্রতিরোধ ব্যবস্থা;
(ই) অগ্নি মোকবিলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের তালিকা প্রণয়ন ও দক্ষতার মান যাচাই;
(ঈ) জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থাবলি পরীক্ষা ও বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিরূপণ;
(উ) তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবন্ধকতা দূর করিবার ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ;
(ঊ) অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জামাদির মানদণ্ড পরীক্ষা;
(এ) প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা বা মহড়া; এবং
(ঐ) প্রস্তাব বা পরামর্শ;
(চ) দুর্ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক ব্যবস্থাপনা:
(অ) সামগ্রিক পরিবেশ ও প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য আপৎকালীন অবস্থা পর্যালোচনা;
(আ) ব্যক্তি পর্যায়ের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা যাচাই বা বিবেচনা;
(ই) ব্যাপকহারে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে উদ্ধার তৎপরতার কর্মপরিকল্পনা;
(ঈ) দায়িত্ব বন্টন;
(উ) উদ্ধার কাজে প্রয়োজনীয় উপকরণ বা সরঞ্জামাদি সংরক্ষণ এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহের উপায় নিরূপণ;
(ঊ) বিভিন্ন সংস্থার সহিত যোগাযোগ ও সমন্বয় পরিকল্পনা;
(ঋ) সঙ্ঘটিত দুর্ঘটনার তদন্ত পরিচালনা ও কারণ নির্ণয়;
(এ) দায়-দায়িত্ব নিরূপণ;
(ঐ) পুনঃদুর্ঘটনারোধে প্রদেয় সুপারিশ ও নির্দেশনা; এবং
(ও) দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত শ্রমিকের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান;
(ছ) বিপজ্জনক চালনা, পেশাগত ব্যধি ও বিষক্রিয়াজনিত অসুস্থতার ব্যবস্থাপনা:
(অ) প্রতিষ্ঠানে বিধি ৯০ এর অধীন তালিকাভুক্ত বিপজ্জনক চালনাযুক্ত পেশাসমূহ নির্ধারণ;
(আ) প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত তফসিলভুক্ত ও তালিকাভুক্ত রাসায়নিক পদার্থের তালিকা প্রণয়ন;
(ই) বিপজ্জনক পেশা ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে কর্মরত শ্রমিকের স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা নিশ্চিতকরণ;
(ঈ) সংশ্লিষ্ট পেশায় নিয়োজিত শ্রমিকের নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত শারীরিক অসুস্থতার বিষয়ে চিকিৎসকদের সহিত মতবিনিময়;
(উ) সংশ্লিষ্ট পেশাসমূহে কর্মরত শ্রমিকের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনার মূল্যায়ন; এবং
(ঊ) স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও নির্দেশনা প্রদান;
(জ) সভা আয়োজন:
(অ) সেইফটি কমিটির সভা প্রতি ৩ (তিন) মাসে ন্যূনতম একবার অনুষ্ঠিত হইবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে যে কোনো সময়ে সভা আহবান করা যাইবে;
(আ) সভায় নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বা সার্ভে রিপোর্ট, নিরাপত্তা ও ঝুঁকি সম্পর্কিত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন, জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ইত্যাদিসহ প্রয়োজনীয় বিষয় আলোচনা করিতে হইবে;
(ই) সভার কার্যবিবরণী লিখিতভাবে সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং প্রতিষ্ঠান বা কারখানা কর্তৃপক্ষ ও পরিদর্শকের চাহিদা অনুযায়ী উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত রাখিতে হইবে;
(ঝ) অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত চেকলিস্ট ও প্রতিবেদন ফরম প্রণয়ন:
(অ) পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা গাইডলাইন বা নির্দেশনা বহিতে নির্দেশিত বিষয়সমূহের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন প্রক্রিয়া, ভৌত কাঠামো, কর্মের প্রকৃতি ও ধরন, মালামাল সংরক্ষণ ও পরিবহণ, কাঁচামাল-কেমিকেলের ধরন ও ব্যবহার এবং সেবার ধরন অনুযায়ী শ্রমিকের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ঝুঁকিসমূহ চিহ্নিত করিবার লক্ষ্যে সেইফটি কমিটি চেকলিস্ট প্রণয়ন করিবে;
(আ) সেইফটি কমিটি মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে মালিক বা ব্যবস্থাপক বরাবর নির্ধারিত চেকলিস্ট ও ফরমে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো সময় কোনোরূপ ত্রুটি-বিচ্যুতি বা আইন বা এই বিধিমালার কোনো বিধানের লংঘন প্রতীয়মান হইলে, উহা সমাধানের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে মালিক বা কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আকারে সুপারিশ উপস্থাপন করিবে;
(ঞ) শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন:
(অ) কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকসহ সকল কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য সেইফটি কমিটি নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করিবে;
(আ) প্রশিক্ষণে কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সকল বিভাগ, কর্মকর্তা ও শ্রমিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করিতে মালিক পক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে;
(ই) সকল প্রশিক্ষণ ও রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হইবে এবং অফিসের কর্ম সময়ের মধ্যে আয়োজন করিতে হইবে।
(ট) সেইফটি কমিটি ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধ বিষয়ে বিধি ৪৫ এর উপ-বিধি (১০) এ বর্ণিত বিধান অনুযায়ী নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মহড়ার আয়োজন করিবে;
(ঠ) তথ্য বা ডাটাবেজ সংরক্ষণ:
(অ) সেইফটি কমিটি দেশের সেইফটি বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহের সহিত দ্রুততম সময়ে যোগাযোগের সুবিধার্থে ফোন, ই-মেইল, ফ্যাক্স, বিস্তারিত ঠিকানা সংবলিত তথ্য বা ডাটাবেজ সংরক্ষণ করিবে;
(আ) সেইফটি কমিটি পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, বিল্ডিং কোড, বিদ্যুৎ, অগ্নিনির্বাপণ, পরিবেশ আইনসহ সেইফটি সংশ্লিষ্ট যাবতীয় আইন-কানুন ও বিধি-বিধান হালনাগাদ অবস্থায় সংরক্ষণ করিবে;
(ড) আইন ও বিধির অষ্টম অধ্যায়ে বর্ণিত দুর্ঘটনার কারণে চিকিৎসা পাইবার ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে সমাধানের জন্য মালিক বা কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আকারে সুপারিশ উপস্থাপন করিতে পারিবেন; এবং
(ঢ) সেইফটি কমিটি জাতীয় বা আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত ‘নিরাপদ কর্মস্থল’ দিবস কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে বা এলাকাভিত্তিক কর্মসূচি পালন করিবার উদ্যোগ গ্রহণ করিবে;
৩। সেইফটি কমিটির এখতিয়ার হইবে নিম্নরূপ, যথা:—
(ক) সংশ্লিষ্ট কারখানা বা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে পরিদর্শক কর্তৃক প্রস্তুতকৃত পরিদর্শন প্রতিবেদনে কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের সেইফটি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো মতামত থাকিলে উক্ত প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি প্রতিবেদন প্রস্তুতের এক মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং সেইফটি কমিটির নিকট প্রেরণ করিবে;
(খ) কোনো বিশেষ প্রয়োজনে বা কোনো জরুরি পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সভা ব্যতীত সেইফটি কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য নিজেদের স্বাক্ষরে মালিক বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিকট যে কোনো সময় বিশেষ প্রতিবেদন দাখিল করিতে পারিবে ;
(গ) সেইফটি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কোনো সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের মালিক বা কর্তৃপক্ষ সুপারিশ প্রাপ্তির পরবর্তী ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে কোনোরূপ উদ্যোগ বা পদক্ষেপ গ্রহণ না করিলে সেইফটি কমিটি অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা পরিদর্শকের নিকট লিখিত আকারে অনুযোগ উপস্থাপন করিতে পারিবেন এবং অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন;
(ঘ) সেইফটি কমিটি স্বাতন্ত্র্যবোধ বজায় রাখিয়া আইন ও এই বিধিমালা দ্বারা অর্পিত দায়িত্ব পালন করিবে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক বিভাগসমূহ সেইফটি কমিটিকে দায়িত্ব প্রতিপালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করিবে;
(ঙ) সেইফটি কমিটির সদস্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠান খোলা বা বন্ধ থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কারখানা বা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করিতে পারিবে এবং মালিক বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করিবেন; এবং
(চ) সেইফটি কমিটির সদস্যদের অধীন গঠিত কমিটি সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা বা প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য প্রতিষ্ঠান বা কারখানা কর্তৃপক্ষ কর্মসময়ের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত ও পর্যাপ্ত সময় প্রদান করিবে;
৪। সেইফটি কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি ও উহার বাস্তবায়ন:
(ক) সেইফটি কমিটি কর্তৃক সেইফটি বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিটির সভায় সর্বসম্মত অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে হইবে;
(খ) সেইফটি কমিটির সিদ্ধান্ত প্রতিপালন বা বাস্তবায়ন করিবার জন্য মালিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন; এবং
(গ) সেইফটি কমিটি কর্তৃক সরল বিশ্বাসে গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত বা সম্পাদিত কোনো কাজের জন্য অথবা সভায় কোনো বিষয়ে মত বা দ্বিমত পোষণের জন্য কমিটির কোনো সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ করা যাইবে না।
৫। সেইফটি কমিটির সদস্যর প্রশিক্ষণ:
(ক) কর্মক্ষেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং কর্মপরিবেশ সম্পর্কিত বিষয়ে মালিক বা কর্তৃপক্ষ সেইফটি কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করিবেন যাহার ব্যয়ভার মালিক নির্বাহ করিবে;
(খ) এইরূপ প্রশিক্ষণ কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে অথবা কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজন করা যাইবে;
(গ) প্রশিক্ষণ চলাকালীন সদস্য কর্মরত ছিলেন বলিয়া গণ্য হইবেন; এবং
(ঘ) সেইফটি কমিটির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের মাধ্যমে, যতদূর সম্ভব, সকল শ্রমিককে নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত থাকিবার বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের আয়োজন করিতে হইবে।
সংশ্লিষ্ট বিধি: বিধি ৫৪
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২; গেজেট ৪ অক্টোবর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি সরকারি উৎস: বাংলাদেশ গেজেট (dpp.gov.bd)