সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই বিধিমালায় —
(১) ‘‘অধিদপ্তর’’ অর্থ আইনের ধারা ২(ক) এ সংজ্ঞায়িত অধিদপ্তর;
(২) ‘‘অবৈধ চলাচল’’ অর্থ অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় সীমা অতিক্রম করা;
(৩) ‘‘আইন’’ অর্থ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১নং আইন);
(৪) ‘‘কমিটি’’ অর্থ বিধি ৩ এর অধীন গঠিত বিপজ্জনক বর্জ্য ও জাহাজভাঙ্গার বর্জ্য সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরী কমিটি; মূল্য ঃ টাকা ৩৪.০০
(৫) ‘‘কারখানা’’ অর্থ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন) এর ধারা ২(৭) এ সংজ্ঞায়িত কারখানা;
(৬) ‘‘কোষ’’ অর্থ বিধি ৪ এর অধীন গঠিত বিপজ্জনক বর্জ্য ও জাহাজভাঙ্গার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কোষ;
(৭) ‘‘গাইডলাইন’’ অর্থ জাহাজভাঙ্গা ইয়ার্ডের পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য পরিশোধন, শ্রমিক/কর্মচারীদের পেশাগত স্বাস্থ্য সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে প্রণীত গাইডলাইন যাহা পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৯ জানুয়ারি ২০১১ তারিখে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয় এবং যাহা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১১ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়;
(৮) ‘‘ছক’’ অর্থ এই বিধিমালার সহিত সংযোজিত ছক;
(৯) ‘‘ছাড়পত্র’’ অর্থ পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ইস্যুকৃত জাহাজভাঙ্গা কার্যক্রম, জাহাজভাঙ্গা ইয়ার্ড, বিপজ্জনক পদার্থ বা বিপজ্জনক বর্জ্য সংক্রান্ত ছাড়পত্র;
(১০) ‘‘জাহাজভাঙ্গা ইয়ার্ড’’ অর্থ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত যে স্থানে জাহাজ ভাঙ্গা কার্যক্রম পরিচালিত হয়;
(১১) ‘‘ট্রনজিট রাষ্ট্র’’ অর্থ সেই রাষ্ট্র যাহার উপর দিয়া বিপজ্জনক পদার্থ বা বিপজ্জনক বর্জ্য পরিবহন করা হয় বা করিবার পরিকল্পনা থাকে, কিন্তু উক্ত রাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট বিপজ্জনক পদার্থ বা বিপজ্জনক বর্জ্যের আমদানীকারক বা রপ্তানীকারক রাষ্ট্র নহে;
(১২) ‘‘তফসিল’’ অর্থ এই বিধিমালার সহিত সংযোজিত তফসিল;
(১৩) ‘‘দুর্ঘটনা’’ অর্থ এমন দুর্ঘটনা যাহার ফলে জাহাজ ভাঙ্গা ইয়ার্ডে বা বিপজ্জনক পদার্থ বা বিপজ্জনক বর্জ্য প্রক্রিয়াকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান বা কারখানা বা বিপজ্জনক পদার্থ বা বিপজ্জনক বর্জ্য রক্ষিত দোকান বা গুদামের অভ্যন্তরে বা বাহিরে বিষাক্ত পদার্থ নির্গমন হইয়া বা ছলকে পড়িয়া অথবা বিস্ফোরণ বা অগ্নিকান্ডের ফলে প্রাণহানী বা শারীরিক জখম হয় অথবা পরিবেশ বা প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতিসাধিত হয়;
(১৪) ‘‘দোকান’’ অর্থ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন) এর ধারা ২ (২১) এ সংজ্ঞায়িত দোকান;
(১৫) ‘‘নিবন্ধিত পুনর্ব্যবহারোপযোগীকারী বা পুনঃপরিশোধনকারী বা পুনর্ব্যবহারকারী’’ অর্থ বিপজ্জনক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারোপযোগীকারী বা পুনঃপরিশোধনকারী বা পুনর্ব্যবহারকারী;
(১৬) ‘‘পরিচালনকারী’’ অর্থ জাহাজভাঙ্গা ইয়ার্ডসহ বিপজ্জনক পদার্থ বা বিপজ্জনক বর্জ্য প্রক্রিয়াকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান, ক্রয়-বিক্রয় বা দোকানদারী, পরিবহন, পাইপলাইন, মওজুদকরণ, গুদামে সংরক্ষণ, কোন স্থানে স্তুপীকরণ বা পরিত্যাজন কার্যক্রম পরিচালনাকারী মালিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক বা ঠিকাদার;
(১৭) ‘‘পরিত্যাজন’’ অর্থ বিপজ্জনক পদার্থ বা বিপজ্জনক বর্জ্য চূড়ান্তভাবে কোন জায়গায় ফেলিয়া দেওয়া বা জমা করা;
(১৮) ‘‘পরিবহন’’ অর্থ স্থল, জল বা আকাশ পথে বিপজ্জনক পদার্থ বা বিপজ্জনক বর্জ্য এক স্থান হইতে অন্যত্র নেওয়া;
(১৯) ‘‘পরিবহনকারী’’ অর্থ বিপজ্জনক পদার্থ বা বিপজ্জনক বর্জ্য পরিবহনে নিয়োজিত ব্যক্তি;
(২০) ‘‘পাইপলাইন’’ অর্থ তফসিল ৪ এর অংশ ১ এর তালিকা খ তে বর্ণিত বিপজ্জনক পদার্থ পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত পাইপ এবং উহার সহিত সংযোজিত সরঞ্জামাদি;
(২১) ‘‘পুনর্ব্যবহার’’ অর্থ কোন বিপজ্জনক পদার্থ ব্যবহৃত হওয়ার পর একই উদ্দেশ্যে বা ভিন্ন উদ্দেশ্যে পুনরায় ব্যবহারকরণ;
(২২) ‘‘পুনর্ব্যবহারোপযোগীকরণ’’ অর্থ কোন বিপজ্জনক বর্জ্য হইতে ব্যবহারোপযোগী বস্তু উদ্ধারের নিমিত্ত এক বা একাধিক প্রযুক্তি দ্বারা উক্ত বিপজ্জনক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ;
(২৩) ‘‘পুনর্ব্যবহারোপযোগীকারী’’ অর্থ পুনর্ব্যবহারোপযোগীকরণ সুবিধার মালিক বা পুনর্ব্যবহারোপযোগীকরণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যক্তি;
(২৪) ‘‘পুনর্ব্যবহারোপযোগীকরণে নিরাপদ’’ অর্থ এইরূপ বিপজ্জনক বর্জ্য যাহাতে বিপজ্জনক উপকরণ উদ্ধারযোগ্য বস্তুর ৬০% এর অধিক নহে এবং যাহা পরিবেশসম্মত প্রযুক্তি দ্বারা পুনর্ব্যবহারোপযোগী করা যায়;
(২৫) ‘‘পুনরুদ্ধার’’ অর্থ বিপজ্জনক বর্জ্য হইতে নির্দিষ্ট বস্তু উদ্ধার করার প্রক্রিয়া;
(২৬) ‘‘প্রক্রিয়াকরণ’’ অর্থ এমন পদ্ধতির প্রয়োগ যাহার ফলে কোন বিপজ্জনক পদার্থের ভৌত, রাসায়নিক বা জৈব গঠন বা গুণগত পরিবর্তন সাধিত হয় এবং উহার ক্ষতিকর ক্ষমতা হ্রাস পায়;
(২৭) ‘‘বর্জ্য’’ অর্থ আইনের ধারা ২ (ঠ) এ সংজ্ঞায়িত বর্জ্য;
(২৮) ‘‘বিপজ্জনক পদার্থ’’ অর্থ আইনের ধারা ২ (ঞ) তে সংজ্ঞায়িত বিপজ্জনক পদার্থ;
(২৯) ‘‘বিপজ্জনক বর্জ্য ও জাহাজভাঙ্গার বর্জ্যের পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা’’ অর্থ বিপজ্জনক বর্জ্য ও জাহাজভাঙ্গার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সামগ্রিকভাবে এমন সকল ব্যবস্থা গ্রহণ যাহাতে সংশ্লিষ্ট দ্রব্য বা বর্জ্যের ক্রিয়া, প্রক্রিয়া বা বিক্রিয়ার ফলে স্বাস্থ্যের বা পরিবেশের ক্ষতি সাধিত না হয়;
(৩০) ‘‘বিপজ্জনক বর্জ্য’’ অর্থ এমন কোন বর্জ্য যাহা উহার প্রাকৃতিক বা ভৌত (physical), রাসায়নিক (chemical), বিক্রিয়া (reactive), বিষাক্ত (toxic), দাহ্য (flammable), বিস্ফোরক (explosive) বা ক্ষয়কর (corrosive) ধর্মহেতু এককভাবে অথবা অন্য কোন বর্জ্য বা পদার্থের সংস্পর্শ লাভের ফলে স্বাস্থ্যের বা পরিবেশের ক্ষতি সাধন করিতে পারে এবং নিম্নবর্ণিত বর্জ্যসমূহও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে—
(ক) তফসিল ২ এর কলাম ৩ এ তালিকাভুক্ত বর্জ্যসমূহ;
(খ) ঐ সকল বর্জ্য যাহার উপকরণ তফসিল ৩ এ বর্ণিত যে কোন এক বা একাধিক পদার্থ দ্বারা গঠিত যাহার গাঢ়ত্ব (concentration) উক্ত তফসিলে বর্ণিত মানমাত্রার সমান বা অধিক;
(গ) তফসিল ৪ এর অংশ ১ এর তালিকা ‘ক’ ও ‘খ’ ভুক্ত বর্জ্য যদি উহার মধ্যে উক্ত তফসিলের অংশ ২ এ বর্ণিত গুণাবলী বিদ্যমান বলিয়া পরিলক্ষিত হয়;
(৩১) ‘‘বিপজ্জনক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সুবিধা’’ অর্থ যেখানে বিপজ্জনক বর্জ্য সৃজন, গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ, গুদামজাতকরণ বা পরিত্যজন অথবা বিপজ্জনক বর্জ্য হইতে নির্দিষ্ট বস্তু পুনরুদ্ধারকরণ সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়;
(৩২) ‘‘বিপজ্জনক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সুবিধা পরিচালনকারী’’ অর্থ বিপজ্জনক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সুবিধার মালিক বা তদ্রুপ সুবিধা পরিচালনাকারী ব্যক্তি;
(৩৩) ‘‘ব্যক্তি’’ অর্থ কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ এবং সংবিধিবদ্ধ হউক বা না হউক, কোন কোম্পানী, সমিতি বা সংস্থাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৩৪) ‘‘মওজুদ’’ অর্থ কোন বিপজ্জনক পদার্থ বা বিপজ্জনক বর্জ্য পরবর্তীতে ব্যবহারের বা অন্যত্র প্রেরণ বা অপসারণ বা পরিত্যজনের উদ্দেশ্যে এক স্থানে জমা করিয়া রাখা;
(৩৫) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ আইনের ধারা ২ (ড) এ সংজ্ঞায়িত মহাপরিচালক;
(৩৬) ‘‘মালামালের তালিকা’’ অর্থ কোন যানবাহনে পরিবহণ করা মালামালের তালিকা;
(৩৭) ‘‘যথাযথ কর্তৃপক্ষ” অর্থ জাহাজভাঙ্গা ইয়ার্ড স্থাপনসহ জাহাজভাঙ্গা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদ্যমান আইন অনুযায়ী যে সকল সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণের প্রয়োজন হয়;
(৩৮) ‘‘রপ্তানীকারক’’ অর্থ কোন ব্যক্তি যিনি কোন দেশ বা দেশের অধীন স্থান হইতে কোন বিপজ্জনক পদার্থ বা বিপজ্জনক বর্জ্য অন্য দেশে রপ্তানী করেন এবং যেই দেশ বা দেশের অধীন স্থান হইতে রপ্তানী করা হয় সেই দেশও রপ্তানীকারক বলিয়া গণ্য হইবে;
(৩৯) ‘‘রাষ্ট্রীয় সীমা বহির্ভূত পরিবহন’’ অর্থ কোন রাষ্ট্র বা কোন রাষ্ট্রের অধীন স্থান হইতে কোন বিপজ্জনক পদার্থ বা বিপজ্জনক বর্জ্য অন্য রাষ্ট্রীয় সীমার উপর দিয়া অথবা কোন রাষ্ট্রীয় সীমার অন্তর্ভুক্ত নহে এমন স্থানের উপর দিয়া পরিবহন করিয়া অন্য রাষ্ট্রে বা রাষ্ট্রের অধীন স্থানে লইয়া যাওয়া;
(৪০) ‘‘শিল্প প্রতিষ্ঠান’’ অর্থ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন) এর ধারা ২(৬১) এ সংজ্ঞায়িত শিল্প প্রতিষ্ঠান।
তথ্যসূত্র: বিপজ্জনক বর্জ্য ও জাহাজভাঙ্গার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১১ — এস. আর. ও নং ৩৬৯-আইন/২০১১, তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১১; বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত), ২২ ডিসেম্বর ২০১১, গেজেট PDF-এর পৃষ্ঠা ১। মূল গেজেট (PDF)। হালনাগাদ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬।
এই বিধিতে উল্লিখিত বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা: ধারা ২