মহিলাদের প্রতি আচরণ
আইনের টেক্সট
১৮৯। কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজে কোনো মহিলা নিযুক্ত থাকিলে, তিনি যে পদমর্যাদারই হউক না কেন, তাহার প্রতি উক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্য কেহ এমন কোনো আচরণ করিতে পারিবেন না যাহা অশ্লীল কিংবা অভদ্রজনোচিত বলিয়া গণ্য হইতে পারে, কিংবা যাহা উক্ত মহিলার শালীনতা ও সম্ভ্রমের পরিপন্থি।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯ (২০১৯ সনের ২ নং আইন), ধারা ১৮৯ — bdlaws.minlaw.gov.bd। bdlaws-এ প্রকাশিত পাঠ (সংগ্রহের দিন পর্যন্ত কোনো সংশোধনী টীকা নেই)। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬।
সংশ্লিষ্ট বিধি
মহিলাদের প্রতি আচরণ
(১) কোনো প্রতিষ্ঠানে মহিলা নিযুক্ত থাকিলে মহিলার শালীনতা, সম্ভ্রমের পরিপন্থী, যৌন হয়রানি, অসৌজন্যমূলক আচরণ, অশ্লীল বা অভদ্র আচরণ করা যাইবে না এবং উক্ত আচরণ বিধি ২৩(১) এর অধীন অসদাচরণ বলিয়া বিবেচিত হইবে।
(২) অশ্লীল বা অভদ্রজনোচিত আচরণ এবং যৌন হয়রানি বলিতে নিম্নবর্ণিত আচরণ অন্তর্ভুক্ত হইবে:
(ক) অনাকাঙ্খিত যৌন আচরণ ( যেমন শারীরিক স্পর্শ বা এই ধরনের প্রচেষ্টা);
(খ) প্রাতিষ্ঠানিক এবং পেশাগত ক্ষমতা ব্যবহার করে কারো সহিত যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা;
(গ) যৌন হয়রানি বা নিপীড়নমূলক উক্তি;
(ঘ) যৌন সুযোগ লাভের জন্য অবৈধ আবেদন;
(ঙ) পর্ণোগ্রাফি দেখানো;
(চ) যৌন আবেদনমূলক মন্তব্য বা ভঙ্গী;
(ছ) অশালীন ভঙ্গি, অশালীন ভাষা বা মন্তব্যের মাধ্যমে উত্যক্ত করা বা অশালীন উদ্দেশ্য পূরণে কোনো ব্যক্তির অলক্ষ্যে তাহার নিকটবর্তী হওয়া বা অনুসরণ করা, যৌন ইঙ্গিতমূলক ভাষা ব্যবহার করিয়া ঠাট্টা বা উপহাস;
(জ) চিঠি, টেলিফোন, মোবাইল, এসএমএস, ছবি, নোটিশ, কার্টুন, চেয়ার-টেবিল, নোটিশ বোর্ড, অফিস বা অন্যান্য যে কোনো স্থানের দেয়ালে যৌন ইঙ্গিতমূলক অপমানজনক কোনো কিছু লিখিত আকারে প্রকাশ;
(ঝ) ব্ল্যাকমেইল অথবা চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে স্থির বা ভিডিও চিত্র ধারণ;
(ঞ) সাংস্কৃতিক, প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করিতে কোনোরূপ বাধার সৃষ্টি;
(ট) প্রেম নিবেদন করিয়া প্রত্যাখ্যাত হইয়া হুমকি বা চাপ প্রয়োগ; এবং
(ঠ) ভয় দেখাইয়া বা মিথ্যা আশ্বাস দিয়া বা প্রতারণার মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক স্থাপন বা স্থাপনের চেষ্টা।
(৩) প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বা কর্মক্ষেত্রে যেখানে কোনো মহিলা বা নারী কর্মী কর্মরত থাকেন, সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ নারী সদস্য সমন্বয়ে অন্যূন ৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ে একটি অভিযোগ কমিটি গঠন করিতে হইবে এবং অভিযোগ কমিটির প্রধান হইবেন একজন নারী।
(৪) কারখানা ব্যবস্থাপনা যৌন হয়রানি প্রতিরোধে গাইডলাইন তৈরিসহ উহা সকল কর্মীদের সরবরাহ করিবে এবং প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ১ (এক) টি করিয়া অভিযোগ বাক্স থাকিবে এবং উপ-বিধি
(৩) এর অধীন গঠিত কমিটি প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ নিয়মিত রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করিয়া নিষ্পত্তি করিবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২; গেজেট ৪ অক্টোবর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি
বাস্তবায়ন নির্দেশিকা
- করণীয়
- নারীর প্রতি অশালীন আচরণ নিষেধ। বিধি ৩১৬(৩): যেখানে নারী কর্মী আছেন সেখানে নারী সংখ্যাগরিষ্ঠ ন্যূনতম ৫ সদস্যের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অভিযোগ কমিটি, প্রধান একজন নারী।
- রেকর্ড
- বিধি ৩১৬(৪): যৌন হয়রানি প্রতিরোধ গাইডলাইন সব কর্মীকে সরবরাহ, প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ১টি অভিযোগ বাক্স, অভিযোগ রেজিস্টার ও নিষ্পত্তির রেকর্ড।
নির্দেশিকা ব্যবহারিক সহায়তার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। Buyer code আইনের চেয়ে কঠোর হলে কঠোরটি মানুন।
BLA-এর সাথে পার্থক্য
BLA-এর সাথে পার্থক্য
BLA (২০২৬): সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধে মালিকের বিস্তারিত দায়িত্ব (নীতি, ঝুঁকি মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ, অভিযোগ ব্যবস্থা)। EPZ ধারা ১৮৯-এ নারীর প্রতি অশালীন আচরণ নিষেধ; এর অধীনে EPZ বিধি ৩১৬-এ যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অভিযোগ কমিটি (ন্যূনতম ৫ সদস্য, নারী সংখ্যাগরিষ্ঠ, প্রধান নারী), গাইডলাইন, অভিযোগ বাক্স ও রেজিস্টার বাধ্যতামূলক।
BLA ধারা ৩৩২ পাশাপাশি দেখুন
BLA ধারা ৩৩২ · কর্মজগতে এবং কর্মস্থলে সহিংসতা ও হয়রানির বিরুদ্ধে সকল ব্যক্তির দায়িত্ব
১[৩৩২। (১) মালিক, নিয়োগকর্তা ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(ক) মালিক, নিয়োগকর্তা ও কর্তৃপক্ষ কর্মস্থলে সহিংসতা, হয়রানি প্রতিরোধে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ যেন বৈরী না হয় তাহা নিশ্চিত করা;
(খ) যৌন হয়রানি ও সহিংসতা বন্ধে যেসকল নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তির উল্লেখ রহিয়াছে তাহা ব্যাপকভাবে প্রচার ও প্রকাশ করা;
(গ) কর্মস্থলে যৌন হয়রানিমূলক সকল প্রকার ঘটনাকে প্রতিরোধ করিতে একটি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা;
(ঘ) সহিংসতা ও হয়রানির বিরুদ্ধে একটি কর্মস্থল নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা;
(ঙ) পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সহিংসতা ও হয়রানি এবং সংশ্লিষ্ট মনোসামাজিক ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া;
(চ) সহিংসতা ও হয়রানির ঝুঁকি চিহ্নিত ও মূল্যায়ন করা এবং তা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা;
(ছ) কর্মরত কর্মী ও শ্রমিকদের জন্য চিহ্নিত ঝুঁকি ও বিপদ সম্পর্কে এবং প্রতিরোধ ও সুরক্ষার ব্যবস্থা, তাহাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া;
(জ) কর্মস্থলের ওয়েবসাইটে এতদ্সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনার পদ্ধতির বিবরণ প্রদান করা;
(ঝ) প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করিবার জন্য যথাযথ কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
(২) কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজে কোনো নারী নিযুক্ত থাকিলে, তিনি যে পদমর্যাদারই হোন না কেন, তাহার প্রতি উক্ত প্রতিষ্ঠানের কোনো সহকর্মী বা অন্য কেহ এমন কোনো আচরণ করিতে পারিবেন না যাহা অশ্লীল কিংবা অভদ্রজনোচিত বলিয়া গণ্য হইতে পারে, কিংবা যাহা উক্ত নারীর শালীনতা ও সম্ভ্রমের পরিপন্থি।]
EPZ ধারা ১৮৯ · মহিলাদের প্রতি আচরণ
১৮৯। কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজে কোনো মহিলা নিযুক্ত থাকিলে, তিনি যে পদমর্যাদারই হউক না কেন, তাহার প্রতি উক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্য কেহ এমন কোনো আচরণ করিতে পারিবেন না যাহা অশ্লীল কিংবা অভদ্রজনোচিত বলিয়া গণ্য হইতে পারে, কিংবা যাহা উক্ত মহিলার শালীনতা ও সম্ভ্রমের পরিপন্থি।