অসদাচরণ এবং দণ্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শাস্তি
আইনের টেক্সট
২১। (১) এই আইনে লে-অফ, ছাঁটাই, ডিসচার্জ এবং চাকরির অবসান সম্পর্কে অন্যত্র যাহা কিছুই বলা হউক না কেন, কোনো শ্রমিককে বিনা নোটিশে বা নোটিশের পরিবর্তে বিনা মজুরিতে চাকরি হইতে বরখাস্ত করা যাইবে, যদি তিনি-
(ক) কোনো ফৌজদারি অপরাধের জন্য দণ্ড প্রাপ্ত হন; অথবা
(খ) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত অসদাচরণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।
(২) অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো শ্রমিককে তদন্তকালীন সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা যাইবে, এবং যদি না বিষয়টি ইপিজেড শ্রম আদালতে বিচারাধীন থাকে, এই সাময়িক বরখাস্তের মোট মেয়াদ ৬০ (ষাট) দিনের অধিক হইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সাময়িক বরখাস্তকালে মালিক তাহাকে তাহার গড় মজুরি, মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরি, যদি থাকে, এর অর্ধেক খোরাকী ভাতা হিসাবে প্রদান করিবেন এবং অন্যান্য ভাতা পূর্ণ হারে প্রদান করিবেন।
(৩) এই ধারার অধীন অন্যান্য অসদাচরণ ও তৎসংশ্লিষ্ট শাস্তি, শাস্তির আদেশ, তদন্তের পদ্ধতি, ইত্যাদি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯ (২০১৯ সনের ২ নং আইন), ধারা ২১ — bdlaws.minlaw.gov.bd। bdlaws-এ প্রকাশিত পাঠ (সংগ্রহের দিন পর্যন্ত কোনো সংশোধনী টীকা নেই)। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬।
সংশ্লিষ্ট বিধি
অসদাচরণ এবং দণ্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শাস্তি
(১) আইনের ধারা ২১ এর উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে, নিম্নরূপ কাজ অসদাচরণ বলিয়া গণ্য হইবে, যথা:
(ক) উর্ধ্বতনের কোনো আইনসঙ্গত বা যুক্তিসঙ্গত আদেশ পালনের ক্ষেত্রে এককভাবে বা অন্যের সঙ্গে সংঘবদ্ধ হইয়া ইচ্ছাকৃতভাবে অবাধ্যতা বা অনানুগত্য প্রদর্শন করা, কাউকে জিম্মি করা বা ঢিমে তালে কাজ করা বা কর্মবিরতি পালন করা;
(খ) মালিকের ব্যবসা বা সম্পত্তি চুরি, আত্মসাৎ, বিনষ্ট, প্রতারণা বা অসাধুতা;
(গ) মালিকের অধীন তাঁহার বা অন্য কোনো শ্রমিকের চাকরি সংক্রান্ত ব্যাপারে ঘুষ গ্রহণ বা প্রদান করা;
(ঘ) বিনা ছুটিতে অভ্যাসগত অনুপস্থিতি অথবা ছুটি না লইয়া একসঙ্গে ১০ (দশ) দিনের অধিক সময় অনুপস্থিত;
(ঙ) অভ্যাসগত বিলম্বে উপস্থিতি;
(চ) প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য কোনো আইন, বিধি বা প্রবিধানের অভ্যাসগত লঙ্ঘন;
(ছ) প্রতিষ্ঠানে উচ্ছৃঙ্খলতা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, অগ্নিসংযোগ বা ভাংচুর অথবা শৃঙ্খলা হানিকর কোনো কাজ:
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রমিকের আইনানুগ পাওনা আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন অথবা দৈনন্দিন কাজের ব্যঘাত না ঘটাইয়া এবং সম্পদ হানি না করিয়া কোনো নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম পরিচালনাকে এই দফায় উল্লিখিত উচ্ছৃঙ্খলতাকে বুঝাইবে না;
(জ) কর্মে অভ্যাসগত গাফিলতি, কাজের সময় ঘুমানো, কর্মরত অবস্থা প্রতিরোধমূলক পোশাক পরিধানের নিয়ম থাকিলে তাহা ব্যবহার না করা, যথার্থ ব্যবহার না করা বা ঢিমে তালে কাজ করা;
(ঝ) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত চাকরি সংক্রান্ত, শৃঙ্খলা বা আচরণসহ যে কোনো বিধি-বিধান অভ্যাসগত লঙ্ঘন করা;
(ঞ) মালিকের অফিসিয়াল রেকর্ডের রদবদল, জালকরণ, অন্যায় পরিবর্তন, উহার ক্ষতিকরণ বা উহা হারাইয়া ফেলা;
(ট) কারখানার নিষিদ্ধ এলাকায় ধূমপান করা;
(ঠ) কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, কারখানা বা ইপিজেডের অভ্যন্তরে মাদকদ্রব্য গ্রহণ বা সেবন ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করা;
(ড) যৌন হয়রানি করা বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা;
(ঢ) মালিকের অনুমোদন ব্যতীত কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান বা কারখানা এলাকায় যে কোনো উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহ বা প্রচারকার্য পরিচালনা করা;
(ণ) নাম, বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পূর্বতন চাকরি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান;
(ত) চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং সনদ জাল করা;
(থ) কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান বা কারখানা এলাকার মধ্যে টাকা ধার দেয়া বা নেওয়া বা আর্থিক কোনো ব্যবসা পরিচালনা করা; এবং
(দ) যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান বা কারখানা এলাকার মধ্যে হ্যান্ডবিল, প্যাম্পপ্লেট বা পোস্টার বিতরণ বা প্রদর্শন করা।
(২) অসদাচরণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কোনো শ্রমিককে চাকরি হইতে বরখাস্তের পরিবর্তে বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, নিম্নলিখিত যে কোনো লঘু শাস্তি প্রদান করা যাইবে, যথা:
(ক) অপসারণ;
(খ) নিম্ন পদে, গ্রেডে বা মজুরি স্কেলে অনধিক ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত অবনমন;
(গ) অনধিক ১ (এক) বৎসরের জন্য পদোন্নতি স্থগিত;
(ঘ) অনধিক ১ (এক) বৎসরের জন্য মজুরি বৃদ্ধি স্থগিত;
(ঙ) জরিমানা আরোপ;
(চ) অনধিক ৭ (সাত) দিন পর্যন্ত বিনা মজুরিতে বা খোরাকীতে সাময়িক বরখাস্ত; এবং
(ছ) ভর্ৎসনা ও সতর্কীকরণ।
(৩) কোনো ফৌজদারী মামলার অধীন বরখাস্তকৃত কোনো শ্রমিক আপিলে খালাস পাইলে তাহাকে তাহার পূর্বতন পদে বহাল করিতে হইবে অথবা নূতন কোনো উপযুক্ত পদে তাহাকে নিয়োগ করিতে হইবে, তবে উহার কোনোটিই সম্ভব না হয়, তাহা হইলে তাহাকে ডিসচার্জকৃত শ্রমিককে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের সমান হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে, তবে বরখাস্ত হইবার কারণে ইতিমধ্যে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের টাকা উহা হইতে বাদ যাইবে।
(৪) আইনের ধারা ২১(১) এর অধীন বরখাস্তকৃত অথবা উপ-বিধি (২)(ক) এর অধীন অপসারিত কোনো শ্রমিকের চাকরির মেয়াদ অবিচ্ছিন্নভাবে অন্যূন ১ (এক) বৎসর হইলে মালিক তাহাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রত্যেক সম্পূর্ণ চাকরি বৎসরের জন্য ১৫ (পনেরো) দিনের মজুরি প্রদান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো শ্রমিককে উপ-বিধি ১ এর দফা (খ), (ছ), (ঠ) ও (ড) এর অধীন অসদাচরণের জন্য বরখাস্ত করা হইলে তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ পাইবেন না এবং এইরূপ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক বিধি-বিধান অনুযায়ী অন্যান্য পাওনা, যদি থাকে, যথানিয়মে পাইবেন।
শাস্তির পদ্ধতি
(১) আইনের ধারা ২১ ও বিধি ২৩ অনুযায়ী অসদাচরণের দায়ে কোনো । শ্রমিকের বিরুদ্ধে শাস্তির আদেশ প্রদান করা যাইবে না, যদি না-
(ক) তাহার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়;
(খ) অভিযোগের একটি কপি তাহাকে প্রদান করা হয় এবং উহার জবাব প্রদানের জন্য অন্তত ৭ (সাত) দিন সময় দেওয়া হয়;
(গ) তাহাকে শুনানির সুযোগ প্রদান করা হয়;
(ঘ) মালিক ও শ্রমিকের সম-সংখ্যক প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তের পর তাহাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়:
(ঙ) মালিক তদন্ত প্রতিবেদন যথাযথভাবে বিবেচনাপূর্বক যথাযথ আদেশ প্রদান করেন; এবং
(চ) মালিক বা তাহার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বরখাস্তের আদেশ অনুমোদন করেন।
(২) অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো শ্রমিককে তদন্ত সাপেক্ষে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হইলে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ লিখিত হইতে হইবে এবং ইহা শ্রমিককে প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হইবে।
(৩) তদন্তে কোনো শ্রমিক দোষী পাওয়া গেলে তাহাকে আইনের ধারা ২১(১) এর অধীন বরখাস্ত বা বিধি ২৩(২) এর অধীন শাস্তি প্রদান করিলে তিনি তাহার সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ের জন্য কোনো মজুরি প্রাপ্ত হইবে না, তবে উক্ত সময়ের জন্য তাহাকে খোরাকী ভাতা প্রদান করিতে হইবে।
(৪) যদি তদন্তে কোনো শ্রমিকের অপরাধ প্রমাণিত না হয়, তাহা হইলে তিনি সাময়িক বরখাস্তকালীন সময় কর্মরত রহিয়াছিলেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্ত সময়ের জন্য তাহার খোরাকী ভাতা সমন্বয়সহ, মজুরি বা বেতন প্রদেয় হইবে।
(৫) শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে শাস্তির আদেশের একটি কপি সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে প্রদান করিতে হইবে।
(৬) কোনো শ্রমিক মালিক কর্তৃক প্রেরিত কোনো নোটিশ, চিঠি, অভিযোগনামা, আদেশ বা অন্য কোনো কাগজপত্র গ্রহণ করিতে অস্বীকার করিলে উহার একটি কপি নোটিশ বোর্ডে প্রদর্শিত হইলে এবং আরেকটি কপি মালিকের নথি-পত্র হইতে প্রাপ্ত শ্রমিকের ঠিকানায় রেজিস্ট্রি ডাকযোগে, সরাসরি বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে প্রেরণ করা হইলে উহা প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৭) শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে মালিক সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের পূর্বতন নথি-পত্র, অপরাধের গুরুত্ব, চাকরিকালীন কৃতিত্ব ও অবদান এবং বিদ্যমান অন্য কোনো বিশেষ অবস্থা বিবেচনা করিতে পারিবে।
তদন্তের পদ্ধতি
(১) কোনো শ্রমিকের কোনো আচরণ বা কাজ অসদাচরণ কিনা উহা যাচাই করিবার উদ্দেশ্যে মালিক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা যদি কোনো প্রকার কৈফিয়ত তলব করেন এবং তৎপ্রেক্ষিতে শ্রমিক কর্তৃক
(ক) প্রদত্ত জবাব সন্তোষজনক হইলে অভিযোগ নিষ্পত্তি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং এই বিষয়টি শ্রমিকের পরবর্তী চাকরির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার প্রভাব ফেলিবে না;
(খ) জবাব প্রদান না করা হইলে বা প্রদত্ত জবাব সন্তোষজনক না হইলে শাস্তি প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য মালিক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করিয়া তাহার নিকট ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে রিপোর্ট উপস্থাপন করিতে নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং এইক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ উত্থাপনের তথা কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিন গণনা করিতে হইবে; এবং
(গ) অভিযুক্ত ব্যক্তি জবাবে তাহার দোষ স্বীকার করিলে মালিক তদন্ত কমিটি গঠন না করিয়া বিধি ২৩(২) এর বিধান অনুযায়ী লঘু শাস্তি প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) মালিক ও শ্রমিক পক্ষ হইতে সমসংখ্যক সদস্য লইয়া অনধিক ৬ (ছয়) জন সদস্য সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হইবে।
(৩) তদন্ত কমিটি, প্রয়োজনে, উপ-কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং উপ-কমিটি উহার পর্যবেক্ষণসহ তদন্ত প্রতিবেদন মূল তদন্ত কমিটির নিকট উপস্থাপন করিবে।
(৪) তদন্ত কমিটিতে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি মালিক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কারখানা বা প্রতিষ্ঠান হইতে মনোনীত হইবেন।
(৫) শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি, অভিযুক্ত শ্রমিকের লিখিত প্রস্তাবক্রমে, উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকের মধ্য হইতে মনোনীত হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নিম্ন পদের কাউকে প্রতিনিধি হিসাবে মনোনয়ন প্রদান করা যাইবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, অভিযুক্ত শ্রমিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাহার প্রতিনিধি মনোনয়ন না করিলে কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কল্যাণ সমিতির কোনো প্রতিনিধিকে বা অংশগ্রহণকারী কমিটির কোনো শ্রমিক প্রতিনিধিকে অথবা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কল্যাণ সমিতি বা অংশগ্রহণকারী কমিটি না থাকিলে সাধারণ শ্রমিকের মধ্য হইতে কোনো শ্রমিককে মনোনয়ন প্রদান করা যাইবে।
(৬) বিধি ২৩(১) এর দফা (খ), (ছ), (ঠ) ও (ড) এর অধীন কোনো শ্রমিকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে অভিযুক্ত শ্রমিক ইচ্ছাপোষণ করিলে তাহার প্রতিনিধি হিসাবে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কল্যাণ সমিতি (যদি থাকে) এর কোনো সদস্য অথবা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কল্যাণ সমিতি না থাকিলে অংশগ্রহণকারী কমিটির কোনো শ্রমিক প্রতিনিধিকে অথবা প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি বা অংশগ্রহণকারী কমিটি না থাকিলে সাধারণ শ্রমিকের মধ্য হইতে কোনো শ্রমিককে (উক্ত শ্রমিকের লিখিত সম্মতিক্রমে) তাহার প্রতিনিধি হিসাবে মনোনয়ন করিতে পারিবে।
(৭) তদন্ত কমিটি তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে নিম্নরূপ পদ্ধতি অনুসরণ করিবে, যথা:
(ক) তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযোগ সংক্রান্ত সকল দলিল এবং যদি কোনো সাক্ষী থাকে তাহাকেসহ কমিটির সম্মুখে উপস্থিত হইবার সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময় উল্লেখপূর্বক নোটিশ জারি করিবে এবং অভিযোগনামার পক্ষে তদন্ত কমিটির নিকট অভিযোগ উপস্থাপনকারী মালিক বা কোম্পানি পক্ষের মনোনীত ব্যক্তিকে নোটিশের অনুলিপি প্রদান করিবে;
(খ) অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার প্রতিপক্ষের সাক্ষীকে জেরা করিবার এবং তাহার আত্মপক্ষ সমর্থন করিবার অধিকারী হইবেন;
(গ) তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং উভয়পক্ষের সাক্ষীর বিবরণ লিপিবদ্ধ করিবে এবং তাহারা যে ভাষা বুঝিতে সক্ষম সেই ভাষায় তাহাদেরকে উক্ত বিবরণী পড়িয়া শুনাইবে এবং অতঃপর সংশ্লিষ্ট বিবরণীতে সাক্ষীর স্বাক্ষর গ্রহণ করিবে; এবং
(ঘ) অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্মত থাকিলে সকল সাক্ষীর বিবরণীতে তাহার স্বাক্ষর গ্রহণ করিবে, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্তের সময় বিবরণীতে স্বাক্ষর করিতে অস্বীকার করিলে তাহাও লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং তদন্ত কমিটির সদস্য ও অন্যান্য সাক্ষীর স্বাক্ষর গ্রহণ করিবে।
(৮) তদন্তকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বীকার করিলে তদন্ত কমিটি অপরাধ স্বীকৃত লিখিয়া তদন্ত কমিটির সদস্য তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য লিপিবদ্ধ করিয়া অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর গ্রহণ করিবে এবং তদন্ত কমিটির সদস্য স্বাক্ষর করিবে।
(৯) অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষ স্বীকার না করিলে অভিযোগের স্বপক্ষের প্রত্যেক সাক্ষীকে পৃথকভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে জেরা করিতে হইবে, তবে কোনো সাক্ষীকে অন্য সাক্ষীর উপস্থিতিতে জেরা করা যাইবে না।
(১০) অভিযুক্ত ব্যক্তি যথাযথ যোগাযোগের পরও উপযুক্ত কারণ বা অনুমতি ব্যতিরেকে তদন্ত কমিটির নিকট অনুপস্থিত থাকিলে তাহার অনুপস্থিতিতে একতরফা তদন্ত সম্পন্ন করিতে হইবে।
(১১) তদন্ত কমিটি তদন্ত অভিযোগনামার বিষয়বস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিবে এবং কোনো অপ্রাসঙ্গিক দলিল গ্রহণ করিবে না।
(১২) তদন্ত কমিটি তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য লিপিবদ্ধ করিয়া তদন্ত প্রতিবেদন মালিক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট উপস্থাপন করিবে।
(১৩) মালিক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন বিবেচনাপূর্বক যথাযথ আদেশ প্রদান করিবেন।
অসদাচরণের শাস্তি হিসাবে জরিমানা সম্পর্কে বিশেষ বিধান
(১) বিধি ২৩(২)(ঙ) এর অধীন জরিমানা করার ক্ষেত্রে কোনো মজুরি মেয়াদে প্রদেয় মোট মজুরির এক দশমাংশের অধিক পরিমাণ অর্থ কোনো শ্রমিককে জরিমানা করা যাইবে না।
(২) কোনো শ্রমিকের উপর আরোপিত জরিমানা কিস্তিতে বা উহা আরোপের তারিখ হইতে ৬০(ষাট) দিন অতিক্রান্ত হইবার পর আদায় করা যাইবে না।
(৩) কোনো জরিমানা, যেই অপরাধের জন্য আরোপিত হইয়াছে সেই অপরাধ সঙ্ঘটনের তারিখে উহা আরোপিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৪) সকল জরিমানা এবং উহার আদায় ফরম-১৬ অনুযায়ী একটি রেজিস্টারে মালিক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং আদায়কৃত জরিমানার অর্থ কেবল প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকের কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা যাইবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২; গেজেট ৪ অক্টোবর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি
বাস্তবায়ন নির্দেশিকা
- করণীয়
- অসদাচরণ, শাস্তি ও তদন্তের পদ্ধতি EPZ বিধিমালায় (বিধি ২৩–২৬)। তদন্তকালীন সাময়িক বরখাস্ত ৬০ দিনের বেশি নয়; এ সময় গড় মজুরি, মহার্ঘ ও এডহক-এর অর্ধেক খোরাকী ভাতা এবং অন্যান্য ভাতা পূর্ণহারে।
নির্দেশিকা ব্যবহারিক সহায়তার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। Buyer code আইনের চেয়ে কঠোর হলে কঠোরটি মানুন।
BLA-এর সাথে পার্থক্য
BLA-এর সাথে পার্থক্য
BLA-তে অসদাচরণের তালিকা ও শাস্তির ধরন আইনেই (ধারা ২৩), পদ্ধতি ধারা ২৪-এ। EPZ ধারা ২১: অসদাচরণ, শাস্তি ও তদন্ত পদ্ধতি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত (EPZ বিধিমালার বিধি ২৩–২৬ দেখুন)। দুই আইনেই সাময়িক বরখাস্ত ৬০ দিনের বেশি নয়।
BLA ধারা ২৩ পাশাপাশি দেখুন
BLA ধারা ২৩ · অসদাচরণ এবং দণ্ড-প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শাস্তি
২৩। (১) এই আইনে লে-অফ, ছাঁটাই, ডিসচার্জ এবং চাকুরীর অবসান সম্পর্কে অন্যত্র যাহা কিছুই বলা হউক না কেন, কোন শ্রমিককে বিনা নোটিশে বা নোটিশের পরিবর্তে বিনা মজুরীতে চাকুরী হইতে বরখাস্ত করা যাইবে, যদি তিনি-
(ক) কোন ফৌজদারী অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত হন; অথবা
(খ) ধারা ২৪ এর অধীন অসদাচরণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।
(২) অসদাচরণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কোন শ্রমিককে উপ-ধারা (১) এর অধীন চাকুরী হইতে বরখাস্তের পরিবর্তে, বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, নিম্নলিখিত যে কোন শাস্তি প্রদান করা যাইবে, যথাঃ-
(ক) অপসারণ;
(খ) নীচের পদে, গ্রেডে বা বেতন স্কেলে অনধিক এক বৎসর পর্যন্ত আনয়ন;
(গ) অনধিক এক বৎসরের জন্য পদোন্নতি বন্ধ;
(ঘ) অনধিক এক বৎসরের জন্য মজুরী বৃদ্ধি বন্ধ;
(ঙ) জরিমানা;
(চ) অনধিক সাত দিন পর্যন্ত বিনা মজুরীতে বা বিনা খোরাকীতে সাময়িক বরখাস্ত;
(ছ) ভর্ৎসনা ও সতর্কীকরণ।
১[(৩) উপ-ধারা (২) (ক) এর অধীন ২[বরখাস্তকৃত বা] অপসারিত কোন শ্রমিককে, যদি তাহার অবিচ্ছিন্ন চাকুরীর মেয়াদ অন্যুন এক বৎসর হয়, মালিক ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রত্যেক সম্পুর্ণ চাকুরী বৎসরের জন্য ১৫ দিনের মজুরী প্রদান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন শ্রমিককে উপ-ধারা (৪) (খ) ও (ছ) এর অধীন অসদাচরণের জন্য বরখাস্ত করা হইলে তিনি কোন ক্ষতিপূরণ পাইবেন না। তবে এইরূপ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক তাহার অন্যান্য আইনানুগ পাওনাদি যথা নিয়মে পাইবেন।]
(৪) নিম্নলিখিত কাজ করা অসদাচরণ বলিয়া গণ্য হইবে, যথাঃ-
(ক) উপরস্থের কোন আইনসংগত বা যুক্তিসংগত আদেশ মানার ক্ষেত্রে এককভাবে বা অন্যের সঙ্গে সংঘবদ্ধ হইয়া ইচ্ছাকৃতভাবে অবাধ্যতা;
(খ) মালিকের ব্যবসা বা সম্পত্তি সম্পর্কে চুরি, ৩[আত্মসাৎ,] প্রতারণা বা অসাধুতা;
(গ) মালিকের অধীন তাঁহার বা অন্য কোন শ্রমিকের চাকুরী সংক্রান্ত ব্যাপারে ঘুষ গ্রহণ বা প্রদান;
(ঘ) বিনা ছুটিতে অভ্যাসগত অনুপস্থিতি অথবা ছুটি না নিয়া এক সঙ্গে দশ দিনের অধিক সময় অনুপস্থিতি;
(ঙ) অভ্যাসগত বিলম্বে উপস্থিতি;
(চ) প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য কোন আইন, বিধি বা প্রবিধানের অভ্যাসগত লঙ্ঘন;
৪[(ছ) প্রতিষ্ঠানে উচ্ছৃংখলতা, দাংগা-হাংগামা, অগ্নিসংযোগ বা ভাংচুর;]
(জ) কাজে-কর্মে অভ্যাসগত গাফিলতি;
(ঝ) প্রধান পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত চাকুরী সংক্রান্ত, শৃঙ্খলা বা আচরণসহ, যে কোন বিধির অভ্যাসগত লঙ্ঘন;
(ঞ) মালিকের অফিসিয়াল রেকর্ডের রদবদল, জালকরণ, অন্যায় পরিবর্তন, উহার ক্ষতিকরণ বা উহা হারাইয়া ফেলা।
(৫) উপ-ধারা (১) (ক) এর অধীন বরখাস্তকৃত কোন শ্রমিক যদি আপীলে খালাস পান, তাহা হইলে তাহাকে তাহার পূর্বতন পদে বহাল করিতে হইবে, অথবা নূতন কোন উপযুক্ত পদে তাহাকে নিয়োগ করিতে হইবে, এবং যদি ইহার কোনটিই সম্ভব না হয়, তাহা হইলে তাহাকে ডিসচার্জকৃত কোন শ্রমিককে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের সমান হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে, তবে বরখাস্ত হওয়ার কারণে ইতিমধ্যে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের টাকা ইহা হইতে বাদ যাইবে।
EPZ ধারা ২১ · অসদাচরণ এবং দণ্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শাস্তি
২১। (১) এই আইনে লে-অফ, ছাঁটাই, ডিসচার্জ এবং চাকরির অবসান সম্পর্কে অন্যত্র যাহা কিছুই বলা হউক না কেন, কোনো শ্রমিককে বিনা নোটিশে বা নোটিশের পরিবর্তে বিনা মজুরিতে চাকরি হইতে বরখাস্ত করা যাইবে, যদি তিনি-
(ক) কোনো ফৌজদারি অপরাধের জন্য দণ্ড প্রাপ্ত হন; অথবা
(খ) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত অসদাচরণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।
(২) অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো শ্রমিককে তদন্তকালীন সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা যাইবে, এবং যদি না বিষয়টি ইপিজেড শ্রম আদালতে বিচারাধীন থাকে, এই সাময়িক বরখাস্তের মোট মেয়াদ ৬০ (ষাট) দিনের অধিক হইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সাময়িক বরখাস্তকালে মালিক তাহাকে তাহার গড় মজুরি, মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরি, যদি থাকে, এর অর্ধেক খোরাকী ভাতা হিসাবে প্রদান করিবেন এবং অন্যান্য ভাতা পূর্ণ হারে প্রদান করিবেন।
(৩) এই ধারার অধীন অন্যান্য অসদাচরণ ও তৎসংশ্লিষ্ট শাস্তি, শাস্তির আদেশ, তদন্তের পদ্ধতি, ইত্যাদি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
BLA ধারা ২৪ পাশাপাশি দেখুন
BLA ধারা ২৪ · শাস্তির পদ্ধতি
২৪। (১) ধারা ২৩ এর অধীন কোন শ্রমিকের বিরুদ্ধে শাস্তির আদেশ প্রদান করা যাইবে না, যদি না-
(ক) তাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ লিখিতভাবে করা হয়;
(খ) অভিযোগের একটি কপি তাহাকে দেওয়া হয় এবং ইহার জবাব দেওয়ার জন্য অন্ততঃ সাতদিন সময় দেওয়া হয়;
(গ) তাহাকে শুনানীর সুযোগ দেওয়া হয়;
১[(ঘ) মালিক বা শ্রমিকের সম-সংখ্যক প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তের পর তাহাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত তদন্ত ষাট দিনের মধ্যে শেষ করিতে হইবে;]
(ঙ) মালিক বা ব্যবস্থাপক বরখাস্তের আদেশ অনুমোদন করেন।
(২) অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত কোন শ্রমিককে তদন্ত সাপেক্ষে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা যাইবে, এবং যদি না বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকে, এই সাময়িক বরখাস্তের মোট মেয়াদ ষাট দিনের অধিক হইবে নাঃ
২[তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সাময়িক বরখাস্তকালে মালিক তাহাকে খোরাকী ভাতা প্রদান করিবেন এবং তিনি অন্যান্য ভাতা পূর্ণহারে প্রাপ্য হইবেন ।]
(৩) সাময়িক বরখাস্তের কোন আদেশ লিখিতভাবে হইবে এবং ইহা শ্রমিককে প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হইবে।
(৪) কোন তদন্তে অভিযুক্ত শ্রমিককে, তাহার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত এবং তৎকর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি ৩[সহায়তা] করিতে পারিবেন।
(৫) যদি কোন তদন্তে কোন পক্ষ মৌখিক সাক্ষী প্রদান করেন, তাহা হইলে যাহার বিরুদ্ধে এই সাক্ষ্য প্রদান করা হইবে তিনি সাক্ষীকে জেরা করিতে পারিবেন।
(৬) যদি তদন্তে কোন শ্রমিককে দোষী পাওয়া যায় এবং তাহাকে ধারা ২৩(১) এর অধীন শাস্তি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তিনি তাহার সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ের জন্য কোন মজুরী পাইবেন না, তবে উক্ত সময়ের জন্য তাহার খোরাকী ভাতা প্রাপ্য থাকিবে।
(৭) যদি তদন্তে কোন শ্রমিকের অপরাধ প্রমাণিত না হয়, তাহা হইলে তিনি সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে কর্মরত ছিলেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং ঐ সময়ের জন্য তাহার, খোরাকী ভাতা সমন্বয়সহ, মজুরী প্রদেয় হইবে।
(৮) শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে, শাস্তির আদেশের একটি কপি সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে দিতে হইবে।
(৯) যদি কোন শ্রমিক মালিক কর্তৃক প্রেরিত কোন নোটিশ, চিঠি, অভিযোগনামা, আদেশ বা অন্য কোন কাগজপত্র গ্রহণ করিতে অস্বীকার করেন, তাহা হইলে উহা তাহাকে প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া বুঝিতে হইবে যদি উহার একটি কপি নোটিশ বোর্ডে প্রদর্শিত হয় এবং আরেকটি কপি মালিকের নথিপত্র হইতে প্রাপ্ত শ্রমিকের ঠিকানায় রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়।
(১০) কোন শাস্তি প্রদানের ব্যাপারে মালিক সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের পূর্বতন নথিপত্র, অপরাধের ৪[গুরুত্ব, চাকুরীকালীন কৃতিত্ব ও অবদান] এবং বিদ্যমান অন্য কোন বিশেষ অবস্থা বিবেচনায় আনিবেন।
EPZ ধারা ২১ · অসদাচরণ এবং দণ্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শাস্তি
২১। (১) এই আইনে লে-অফ, ছাঁটাই, ডিসচার্জ এবং চাকরির অবসান সম্পর্কে অন্যত্র যাহা কিছুই বলা হউক না কেন, কোনো শ্রমিককে বিনা নোটিশে বা নোটিশের পরিবর্তে বিনা মজুরিতে চাকরি হইতে বরখাস্ত করা যাইবে, যদি তিনি-
(ক) কোনো ফৌজদারি অপরাধের জন্য দণ্ড প্রাপ্ত হন; অথবা
(খ) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত অসদাচরণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।
(২) অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো শ্রমিককে তদন্তকালীন সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা যাইবে, এবং যদি না বিষয়টি ইপিজেড শ্রম আদালতে বিচারাধীন থাকে, এই সাময়িক বরখাস্তের মোট মেয়াদ ৬০ (ষাট) দিনের অধিক হইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সাময়িক বরখাস্তকালে মালিক তাহাকে তাহার গড় মজুরি, মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরি, যদি থাকে, এর অর্ধেক খোরাকী ভাতা হিসাবে প্রদান করিবেন এবং অন্যান্য ভাতা পূর্ণ হারে প্রদান করিবেন।
(৩) এই ধারার অধীন অন্যান্য অসদাচরণ ও তৎসংশ্লিষ্ট শাস্তি, শাস্তির আদেশ, তদন্তের পদ্ধতি, ইত্যাদি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।