বিধি ২৩ — অসদাচরণ এবং দণ্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শাস্তি
অসদাচরণ এবং দণ্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শাস্তি
(১) আইনের ধারা ২১ এর উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে, নিম্নরূপ কাজ অসদাচরণ বলিয়া গণ্য হইবে, যথা:
(ক) উর্ধ্বতনের কোনো আইনসঙ্গত বা যুক্তিসঙ্গত আদেশ পালনের ক্ষেত্রে এককভাবে বা অন্যের সঙ্গে সংঘবদ্ধ হইয়া ইচ্ছাকৃতভাবে অবাধ্যতা বা অনানুগত্য প্রদর্শন করা, কাউকে জিম্মি করা বা ঢিমে তালে কাজ করা বা কর্মবিরতি পালন করা;
(খ) মালিকের ব্যবসা বা সম্পত্তি চুরি, আত্মসাৎ, বিনষ্ট, প্রতারণা বা অসাধুতা;
(গ) মালিকের অধীন তাঁহার বা অন্য কোনো শ্রমিকের চাকরি সংক্রান্ত ব্যাপারে ঘুষ গ্রহণ বা প্রদান করা;
(ঘ) বিনা ছুটিতে অভ্যাসগত অনুপস্থিতি অথবা ছুটি না লইয়া একসঙ্গে ১০ (দশ) দিনের অধিক সময় অনুপস্থিত;
(ঙ) অভ্যাসগত বিলম্বে উপস্থিতি;
(চ) প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য কোনো আইন, বিধি বা প্রবিধানের অভ্যাসগত লঙ্ঘন;
(ছ) প্রতিষ্ঠানে উচ্ছৃঙ্খলতা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, অগ্নিসংযোগ বা ভাংচুর অথবা শৃঙ্খলা হানিকর কোনো কাজ:
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রমিকের আইনানুগ পাওনা আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন অথবা দৈনন্দিন কাজের ব্যঘাত না ঘটাইয়া এবং সম্পদ হানি না করিয়া কোনো নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম পরিচালনাকে এই দফায় উল্লিখিত উচ্ছৃঙ্খলতাকে বুঝাইবে না;
(জ) কর্মে অভ্যাসগত গাফিলতি, কাজের সময় ঘুমানো, কর্মরত অবস্থা প্রতিরোধমূলক পোশাক পরিধানের নিয়ম থাকিলে তাহা ব্যবহার না করা, যথার্থ ব্যবহার না করা বা ঢিমে তালে কাজ করা;
(ঝ) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত চাকরি সংক্রান্ত, শৃঙ্খলা বা আচরণসহ যে কোনো বিধি-বিধান অভ্যাসগত লঙ্ঘন করা;
(ঞ) মালিকের অফিসিয়াল রেকর্ডের রদবদল, জালকরণ, অন্যায় পরিবর্তন, উহার ক্ষতিকরণ বা উহা হারাইয়া ফেলা;
(ট) কারখানার নিষিদ্ধ এলাকায় ধূমপান করা;
(ঠ) কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, কারখানা বা ইপিজেডের অভ্যন্তরে মাদকদ্রব্য গ্রহণ বা সেবন ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করা;
(ড) যৌন হয়রানি করা বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা;
(ঢ) মালিকের অনুমোদন ব্যতীত কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান বা কারখানা এলাকায় যে কোনো উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহ বা প্রচারকার্য পরিচালনা করা;
(ণ) নাম, বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পূর্বতন চাকরি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রদান;
(ত) চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং সনদ জাল করা;
(থ) কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান বা কারখানা এলাকার মধ্যে টাকা ধার দেয়া বা নেওয়া বা আর্থিক কোনো ব্যবসা পরিচালনা করা; এবং
(দ) যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান বা কারখানা এলাকার মধ্যে হ্যান্ডবিল, প্যাম্পপ্লেট বা পোস্টার বিতরণ বা প্রদর্শন করা।
(২) অসদাচরণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কোনো শ্রমিককে চাকরি হইতে বরখাস্তের পরিবর্তে বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, নিম্নলিখিত যে কোনো লঘু শাস্তি প্রদান করা যাইবে, যথা:
(ক) অপসারণ;
(খ) নিম্ন পদে, গ্রেডে বা মজুরি স্কেলে অনধিক ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত অবনমন;
(গ) অনধিক ১ (এক) বৎসরের জন্য পদোন্নতি স্থগিত;
(ঘ) অনধিক ১ (এক) বৎসরের জন্য মজুরি বৃদ্ধি স্থগিত;
(ঙ) জরিমানা আরোপ;
(চ) অনধিক ৭ (সাত) দিন পর্যন্ত বিনা মজুরিতে বা খোরাকীতে সাময়িক বরখাস্ত; এবং
(ছ) ভর্ৎসনা ও সতর্কীকরণ।
(৩) কোনো ফৌজদারী মামলার অধীন বরখাস্তকৃত কোনো শ্রমিক আপিলে খালাস পাইলে তাহাকে তাহার পূর্বতন পদে বহাল করিতে হইবে অথবা নূতন কোনো উপযুক্ত পদে তাহাকে নিয়োগ করিতে হইবে, তবে উহার কোনোটিই সম্ভব না হয়, তাহা হইলে তাহাকে ডিসচার্জকৃত শ্রমিককে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের সমান হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে, তবে বরখাস্ত হইবার কারণে ইতিমধ্যে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের টাকা উহা হইতে বাদ যাইবে।
(৪) আইনের ধারা ২১(১) এর অধীন বরখাস্তকৃত অথবা উপ-বিধি (২)(ক) এর অধীন অপসারিত কোনো শ্রমিকের চাকরির মেয়াদ অবিচ্ছিন্নভাবে অন্যূন ১ (এক) বৎসর হইলে মালিক তাহাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রত্যেক সম্পূর্ণ চাকরি বৎসরের জন্য ১৫ (পনেরো) দিনের মজুরি প্রদান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো শ্রমিককে উপ-বিধি ১ এর দফা (খ), (ছ), (ঠ) ও (ড) এর অধীন অসদাচরণের জন্য বরখাস্ত করা হইলে তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ পাইবেন না এবং এইরূপ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক বিধি-বিধান অনুযায়ী অন্যান্য পাওনা, যদি থাকে, যথানিয়মে পাইবেন।
সংশ্লিষ্ট ধারা (বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯): ধারা ২১
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২; গেজেট ৪ অক্টোবর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি