বিধি ২১৫ — তহবিলের সুবিধা প্রাপ্তির যোগ্যতা ও অর্থের ব্যবহার
তহবিলের সুবিধা প্রাপ্তির যোগ্যতা ও অর্থের ব্যবহার
(১) আইনের পঞ্চদশ অধ্যায়ের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে তহবিলের সুবিধা প্রাপ্তির যোগ্য সুবিধাভোগী বলিতে ধারা ২৩৩(১)
(ঝ)-তে সুবিধাভোগীর সংজ্ঞায় বর্ণিত কোন ব্যক্তিকে বুঝাইবে।
(২) প্রত্যেক মালিক সকল সুবিধাভোগীর তালিকা ও তাহাদের উত্তরাধিকারীদের তালিকা পরিচালনা বোর্ডের নিকট সরবরাহ করিবেন।
(৩) কেন্দ্রীয় তহবিলের অধীন ২ (দুই)টি হিসাব খুলিতে হইবে যাহার একটি সুবিধাভোগী কল্যাণ হিসাব এবং অন্যটি আপদকালীন হিসাব নামে অবিহিত হইবে।
(৪) তহবিলে প্রাপ্ত মোট অর্থের শতকরা ৫০ (পঞ্চাশ) ভাগ সুবিধাভোগী কল্যাণ হিসাব এবং অবশিষ্ট শতকরা ৫০ (পঞ্চাশ) ভাগ আপদকালীন হিসাবে জমা হইবে।
(৫) তহবিলে জমাকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট সেক্টরের সুবিধাভোগীরগণের দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতা অথবা শরীরের কোন অঙ্গহানী হইলে এককালীন অনুদান হিসাবে প্রদান করা হইবে এবং সুবিধাভোগীর সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ সংক্রান্ত অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা যাইবে।
(৬) উপ-বিধি (৩) এ উল্লিখিত হিসাব হইতে প্রাপ্ত অর্থ আইনের অধীন কারখানা বা প্রতিষ্ঠান হইতে প্রাপ্ত অন্যান্য আইনানুগ সুবিধার অতিরিক্ত হইবে।
(৭) সুবিধাভোগী কল্যাণ হিসাব হইতে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে অনুদান প্রদান করা যাইবে, যথা :—
(ক) কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত কারণে অথবা পেশাগত রোগে আক্রান্ত হইয়া মৃত্যুবরণ করিলে অথবা পরবর্তীতে মৃত্যু ঘটিলে অথবা কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত কারণে অথবা পেশাগত রোগে আক্রান্ত হইয়া স্থায়ী অক্ষমতা ঘটিলে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী বা তাহার উপযুক্ত উত্তরাধিকারী ও পোষ্যকে তিন লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান;
(খ) কোন সুবিধাভোগী চাকরিরত অবস্থায় অসুস্থ হইয়া বা কর্মক্ষেত্রের বাহিরে কোন দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ অথবা স্থায়ীভাবে অক্ষম হইয়া গেলে তিনি বা তাহার উপযুক্ত উত্তরাধিকারীকে দুই লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান;
(গ) কোন সুবিধাভোগী কর্মকালীন দুর্ঘটনায় পতিত হইয়া তাহার কোন অঙ্গহানি ঘটিলে যাহা স্থায়ী অক্ষমতার কারণ নহে তাহা হইলে তাহাকে অনধিক এক লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান;
(ঘ) অসুস্থ সুবিধাভোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা বা আর্থিক অনুদান প্রদান ;
(ঙ) সুবিধাভোগীদের পরিবারের মেধাবী সদস্যকে শিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদান ;
(চ) তহবিল পরিচালনা ও প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা ;
(ছ) সামাজিক নিরাপত্তামূলক সুবিধা হিসাবে বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন; এবং
(জ) উপরি-উক্ত কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য যে কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অন্য যে কোন কার্য সম্পাদন।
(৮) আপদকালীন হিসাব হইতে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে অনুদান প্রদান করা যাইবে, যথা :—
(ক) ধারা ২৮(ক) মোতাবেক কোন কারখানা বা প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হইলে বোর্ড কর্তৃক বিধি ৩২ অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের পাওনা অর্থের সমুদয় বা আংশিক পরিশোধ :
তবে শর্ত থাকে যে, বোর্ড মালিকের অসমর্থতা যাচাইপূর্বক উক্তরূপ পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে ;
(খ) সুবিধাভোগীদের গ্রুপ বীমার বাৎসরিক প্রিমিয়ামের অর্থ প্রদান :
তবে শর্ত থাকে যে, বিধি ৯৮ এর অধীন যে সকল প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক বীমা চালু রহিয়াছে উহা এই বিধির অধীন গঠিত তহবিল পরিপূর্ণ চালু না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা যাইবে না; এবং
(গ) সুবিধাভোগীদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের জন্য স্বাস্থ্য বীমা স্কীম চালুকরণ।
বিধি ২১৫ এর (ক) উপ-বিধি (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-বিধি (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা: ‘‘(১) কেন্দ্রীয় তহবিলের সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ‘সুবিধাভোগী’ বলিতে শিক্ষাধীনসহ যে কোন ব্যক্তিকে বুঝাইবে, যিনি মালিক কিংবা অংশীদার কিংবা পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ব্যতীত পদমর্যাদা নির্বিশেষে কেন্দ্রীয় তহবিলের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে ৯ (নয়) মাস নিযুক্ত রহিয়াছেন: তবে শর্ত থাকে যে, যে সকল প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় তহবিলের আওতাধীন নয় সেই সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য ধারা ৯৯ এর বিধান প্রযোজ্য হইবে।’’; (খ) উপ-বিধি (২) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-বিধি (২) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা: ‘‘(২) শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প সেক্টরের মালিকদের সংগঠন ডাটাবেইজের মাধ্যমে সকল সুবিধাভোগীর তালিকা সংরক্ষণ করিবে এবং চাহিদা অনুযায়ী তাহাদের উত্তরাধিকারীদের তালিকা কেন্দ্রীয় তহবিল পরিচালনা বোর্ডের নিকট সরবরাহ করিবে।’’; (গ) উপ-বিধি (৪) এর প্রান্তস্থিত ‘।’ দাড়ি এর পরিবর্তে ‘:’ কোলন প্রতিস্থাপিত হইবে এবং অতঃপর নিম্নরূপ নূতন শর্তাংশ সংযোজিত হইবে, যথা: “তবে শর্ত থাকে যে, বিধি ২১৪(১)(ঘ) এর বিধান অনুযায়ী কোন বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা বা কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে দেশি-বিদেশি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হইতে প্রাপ্ত অনুদান ‘সুবিধাভোগী কল্যাণ হিসাব’ বা ‘আপদকালীন হিসাবে’ জমা প্রদান না করিয়া আলাদা হিসাব সংরক্ষণপূর্বক সুবিধাভোগীর সামাজিক নিরাপত্তা সুরক্ষা বা অন্য কোন কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাইবে।’’;
সংশ্লিষ্ট ধারা (বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬): ধারা ২৮ · ধারা ২৩৩ · ধারা ২৩৪
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ — এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত), ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫; বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২; গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি