RMG Code — Rules for a Better TomorrowRMG Code
শ্রম আইন
ধারা৮৯

প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম

৪টি বিধি

আইনের টেক্সট

৮৯৷ (১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে সকল কর্ম সময়ে যাহাতে সহজে পাওয়া যায় এমনভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সমৃদ্ধ বাক্স অথবা বিধি দ্বারা নির্ধারিত সরঞ্জাম সমৃদ্ধ আলমিরার ব্যবস্থা করিতে হইবে৷

(২) উক্তরূপ বাক্স বা আলমিরার সংখ্যা, প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ নিয়োজিত প্রত্যেক একশত পঞ্চাশ জন শ্রমিকের জন্য একটির কম হইবে না৷

(৩) প্রত্যেক প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স অথবা আলমিরা এমন একজন দায়িত্বপূর্ণ ব্যক্তির জিম্মায় থাকিবে যিনি প্রাথমিক চিকিত্সায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং যাহাকে প্রতিষ্ঠানের সকল কর্ম সময়ে পাওয়া যাইবে৷

(৪) প্রত্যেক কর্ম-কক্ষে উক্ত ব্যক্তির নাম সম্বলিত একটি নোটিশ টাংগাইয়া দেওয়া হইবে এবং উক্ত ব্যক্তি তাহাকে সহজে সনাক্ত করা যায় মত ব্যাজ পরিধান করিবেন৷

(৫) যে সকল প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ তিনশ বা ততোধিক শ্রমিক নিয়োজিত থাকেন সে সকল প্রতিষ্ঠানে বিধি দ্বারা নির্ধারিত মাপের ও যন্ত্রপাতি সজ্জিত অথবা অন্যান্য সুবিধা সম্বলিত ডিসপেনসারীসহ একটি রোগী কক্ষ থাকিবে, এবং উক্ত কক্ষটি বিধি দ্বারা নির্ধারিত চিকিৎসক ও নার্সিং স্টাফের দায়িত্বে থাকিবে৷

১[(৬) যে সকল প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানসমূহে পাঁচ হাজার বা ততোধিক শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন সেই সকল প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিক বা মালিকগণ বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় একটি স্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনার ব্যবস্থা করিবেন।

(৭) পেশাগত রোগে বা কর্মকালীন দুর্ঘটনায় আক্রান্ত শ্রমিক ও কর্মচারীকে মালিকের নিজ খরচে ও দায়িত্বে উক্ত রোগ, আঘাত বা অসুস্থতা উপযুক্ত বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা করিতে হইবে।

(৮) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে যেখানে ৫০০ জন বা ততোধিক সংখ্যক শ্রমিক নিযুক্ত রহিয়াছেন সেই সব প্রতিষ্ঠানের মালিক বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগ করিবেন।]

সংশোধনী টীকা (১)
  1. উপ-ধারা (৬), (৭) এবং (৮) বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ২৮ ধারাবলে সংযোজিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন), ধারা ৮৯ — bdlaws.minlaw.gov.bd। সংকলিত পাঠ: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন, ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর) পর্যন্ত। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬।

সংশ্লিষ্ট বিধি

বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ · এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫
সংশোধন: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২, গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২
বিধি ৭৬

প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জামাদি

(১) ধারা ৮৯(১) এর বিধান অনুসারে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি বিভাগ, শাখা ও তলায় কমপক্ষে একটি করিয়া প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স বা আলমারি থাকিতে হইবে এবং উহা সুস্পষ্টভাবে রেড ক্রিসেন্ট বা ক্রস চিহ্নযুক্ত হইতে হইবে এবং ব্যক্তির সংখ্যার ভিত্তিতে উহাতে উপ-বিধি (২), (৩) বা (৪) এ বর্ণিত সরঞ্জামাদি থাকিবে।

(২) যান্ত্রিক শক্তি ব্যবহৃত হয় এমন প্রতিষ্ঠান, বিভাগ, শাখা ও তলায় নিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা যদি ১০ এর অধিক না হয় অথবা যেসব প্রতিষ্ঠানে কোন যান্ত্রিক শক্তি ব্যবহার করা হয় না সেখানে যদি নিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৫০ এর অধিক না হয় তবে সেইসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স বা আলমারিতে নিম্নবর্ণিত সরঞ্জামাদি থাকিবে, যথা:—

(ক) ৬টি ছোট জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ;

(খ) ৩টি (প্রতিটি ০.৫ আউন্স) প্যাকেট জীবানুমুক্ত তুলা;

(গ) ৩টি মাঝারি আকৃতির জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ;

(ঘ) ৩টি বড় আকৃতির জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ;

(ঙ) পুড়ে যাইবার ক্ষেত্রে ব্যবহার্য ৩টি বড় আকৃতির জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ;

(চ) হিবিসল বা হেক্সাসল ভর্তি ১টি (১ আউন্স) বোতল;

(ছ) রেকটিফাইড স্পিরিট ভর্তি ১টি (১ আউন্স) বোতল;

(জ) এক জোড়া কাঁচি;

(ঝ) প্রাথমিক চিকিৎসার প্রচারপত্র ১ কপি;

(ঞ) বেদনানাশক ও এন্টাসিড জাতীয় বড়ি, পোড়ায় ব্যবহারের মলম, চোখের মলম এবং শল্য চিকিৎসার উপযুক্ত এন্টিসেপটিক দ্রবণ; এবং

(ট) ৩টি খাবার স্যালাইন প্যাকেট।

(৩) যেসব প্রতিষ্ঠানে বিভাগ, শাখা ও তলায় যান্ত্রিক শক্তি ব্যবহৃত হয় এবং নিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১০ (দশ) এর অধিক কিন্তু ৫০ (পঞ্চাশ) অতিক্রম করে না সেখানে প্রতিটি প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স বা আলমারিতে নিম্নবর্ণিত সরঞ্জামাদি থাকিবে, যথা:—

(ক) ১২টি ছোট জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ ;

(খ) ৬টি মাঝারি আকারের জীবাণুমুক্ত তুলার প্যাকেট;

(গ) ৬টি বড় আকারের জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ;

(ঘ) পুড়ে যাইবার ক্ষেত্রে ব্যবহার্য ৬টি বড় আকৃতির জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ;

(ঙ) ৬টি (০.৫ আউন্স) জীবাণুমুক্ত তুলার প্যাকেট;

(চ) হিবিসল বা হেক্সাসল ভর্তি ১টি (২ আউন্স) বোতল;

(ছ) ১টি (২ আউন্স) রেকটিফাইড স্পিরিট ভর্তি বোতল;

(জ) টুরনিকেট (রক্তপাত বন্ধ করিবার উপকরণ) ;

(ঝ) ১ রোল অাঁঠালো প্লাস্টার ;

(ঞ) ১ জোড়া কাঁচি;

(ট) প্রাথমিক চিকিৎসার প্রচারপত্র ১ কপি;

(ঠ) বেদনানাশক ও এন্টাসিড বড়ি, পোড়ায় ব্যবহারের মলম, চোখের মলম এবং শল্য চিকিৎসার উপযুক্ত জীবাণুনাশক দ্রবণ; এবং

(ড) ৬টি খাবার স্যালাইন প্যাকেট।

(৪) ৫০ (পঞ্চাশ) জন বা ইহার চাইতে অধিক লোক নিয়োগ করা হয় এমন প্রতিষ্ঠানের বিভাগ, শাখা ও তলায় প্রতিটি প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স বা আলমারিতে মহাপরিদর্শক কর্তৃক ভিন্নরূপ নির্দেশ না হওয়া পর্যন্ত নিম্নবর্ণিত সরঞ্জামাদি থাকিবে, যথা:—

(ক) ১২টি (০.৫ আউন্স) জীবাণুমুক্ত তুলার প্যাকেট;

(খ) ১২টি মাঝারি আকারের জীবাণুমুক্ত তুলার প্যাকেট ;

(গ) ১২টি বড় আকারের জীবাণুমুক্ত তুলার প্যাকেট;

(ঘ) ২৪টি ছোট জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ ;

(ঙ) পোড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার্য ১২টি বড় আকারের জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ;

(চ) ১২টি (৪" চওড়া) রোলার ব্যান্ডেজ;

(ছ) ১২টি (২" চওড়া) রোলার ব্যান্ডেজ;

(জ) ৬টি ত্রিকোণাকৃতি ব্যান্ডেজ;

(ঝ) টুরনিকেট (রক্তপাত বন্ধ করিবার উপকরণ);

(ঞ) শতকরা ২ ভাগ আয়োডিনের এলকোহলিক দ্রবণ ভর্তি ১টি বোতল (৪ আউন্স);

(ট) এক জোড়া কাঁচি;

(ঠ) ১টি (৪ আউন্স) রেকটিফাইড স্পিরিট ভর্তি বোতল;

(ড) ২ প্যাকেট সেইফটি পিন;

(ঢ) হাড়ভাঙ্গার ক্ষেত্রে ব্যবহার্য ১২ টি বাঁশের/কাঠের চটি;

(ণ) বেদনানাশক ও এন্টাসিড বড়ি, পোড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার্য মলম এবং শল্য চিকিৎসার জীবাণুনাশক দ্রব্য;

(ত) খাবার স্যালাইন প্যাকেট ১২টি; এবং

(থ) ১টি প্রাথমিক চিকিৎসার প্রচারপত্র।

(৫) এই বিধিতে উল্লিখিত বাক্স ও আলমারি, যন্ত্রপাতি এবং উপকরণসমূহ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রতি ৩ (তিন) মাসে অন্তত একবার পরীক্ষা করিতে হইবে এবং কোন সামগ্রীর মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখের অন্তত এক মাস পূর্বে উহা পরিবর্তন করিতে হইবে।

(৬) যে প্রতিষ্ঠানে যথাযথ সাজ-সরঞ্জামসহ চিকিৎসা কক্ষ রহিয়াছে অথবা যেখানে অনুরূপ সবকিছু অন্তত একটি বাক্সে সংরক্ষণ করা হয় সেইখানে প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্সে শুধুমাত্র উপ- বিধি (২)-তে উল্লিখিত সরঞ্জাম থাকিলে চলিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, পরিদর্শক, সময়ে সময়ে, উক্ত বাক্স বা আলমারিতে অন্য কোন সরঞ্জাম যোগ করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিলে উহা সংরক্ষণ করিতে হইবে।

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ৪৪
বিধি ৭৭

চিকিৎসা কক্ষ

(১) প্রতিটি কারখানায় বা প্রতিষ্ঠানে ডিসপেনসারিসহ চিকিৎসা কক্ষ কমপক্ষে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের দায়িত্বে থাকিবে এবং তাহাকে সহায়তা করিবার জন্য অন্যূন একজন প্রশিক্ষিত কম্পাউন্ডার বা মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্ট, নার্স এবং অধস্তন কর্মচারী থাকিবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত শ্রমিকের সংখ্যা তিন হাজারের অধিক হইলে অন্যূন দুইজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক ও তাহাদেরকে সহায়তা করিবার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্ট এবং নার্স রাখিতে হইবে।

(২) চিকিৎসা কক্ষ যতখানি সম্ভব প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য অংশ হইতে আলাদা থাকিবে এবং প্রতিষ্ঠানের যে সকল অংশে সহনীয় মাত্রার অধিক শব্দপূর্ণ প্রক্রিয়া চলে সেইসব অংশের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত হইবে না।

(৩) যে ভবন বা ভবনের কোন অংশ রোগী কক্ষ হিসাবে ব্যবহৃত হইবে তাহার নকশা ও জায়গার নকশা মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে।

(৪) চিকিৎসা কক্ষের মেঝে মসৃণ, অভেদ্য ও মজবুত হইবে এবং দেয়ালসমূহ ১.৫০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত অভেদ্য হইবে এবং কক্ষটি পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল সম্পন্ন এবং স্বাভাবিক ও কৃত্রিম উভয়ভাবে আলোকিত থাকিতে হইবে।

(৫) চিকিৎসা কক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসা ও রোগীর আরামের জন্য ব্যবহৃত হইবে এবং উহাতে কমপক্ষে নিম্নবর্ণিত আসবাব ও সরঞ্জামাদি থাকিবে, যথা:—

(ক) গরম পানি ও ঠান্ডা পানির একটি প্রলেপযুক্ত পাত্র ;

(খ) মসৃণ উপরিতল বিশিষ্ট ১.৮৫ ×

১.১০ মিটার মাপের একটি টেবিল ;

(গ) যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্তকরণের ব্যবস্থা ;

(ঘ) শোয়ার জন্য দুইটি আসন ও ২ টি স্ট্রেচার ও ১ টি হুইল চেয়ার ;

(ঙ) দু’টি বালতি বা অঁাটসাঁট ঢাকনাযুক্ত পাত্র ;

(চ) পানি গরম করিবার জন্য একটি কেটলি ও স্পিরিট স্টোভ বা অন্য কোন উপযুক্ত ব্যবস্থা ;

(ছ) ১২টি (৯১.৪৪ সে.মি. ×

১০.১৬ সে.মি. ×

০.৬৩ সে.মি.) কাঠের সাধারণ চটি ;

(জ) ১২টি (৩৫.৫৬ ×

৭.৬২ সে.মি. ×

০.৬৩ সে.মি.) কাঠের সাধারণ চটি ;

(ঝ) ৬টি (২৫.৪০ ×

৫.০৮ ×

০.৬৩ সে.মি.) কাঠের সাধারণ চটি ;

(ঞ) ৬টি পশমী কম্বল ;

(ট) একজোড়া আর্টারি ফরসেপ;

(ঠ) দু’টি মাঝারি আকারের স্পঞ্জ;

(ড) ৬টি হাত তোয়ালে;

(ঢ) চারটি ট্রে;

(ণ) চারটি কার্বলিক সাবান;

(ত) ২টি কাচের পাত্র;

(থ) ২টি ডাক্তারী থার্মোমিটার এবং কয়েকটি হাইপোডারমিক সিরিঞ্জ ;

(দ) দাগকাটা মাপন গ্যাস এবং চা চামচ ;

(ধ) চোখ ধোয়ার সরঞ্জাম;

(ন) এক বোতল (১ লিটার) ১ ঃ ২০ কার্বলিক লোশন;

(প) ৩টি চেয়ার;

(ফ) একটি পর্দা;

(ব) একটি বৈদ্যুতিক হ্যান্ড টর্চ ;

(ভ) ৭৬(১) নং বিধি মোতাবেক নির্ধারিত মানের একটি প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স বা আলমারি ;

(ম) ধনুষ্টংকার প্রতিরোধক সিরামের পর্যাপ্ত সরবরাহ; এবং

(য) টুরনিকেট (রক্ত বন্ধ করিবার উপকরণ)।

(৬) হাসপাতাল হইতে কোন যানবাহন পাইবার ব্যবস্থা না করা থাকিলে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের মালিককে গুরুতর দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে দ্রুত পরিবহণের জন্য উপযুক্ত ও সার্বক্ষণিক কার্যক্ষম অবস্থায় যানবাহনের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে।

(৭) চিকিৎসা কক্ষে সেবাদানকৃত সকল দুর্ঘটনা এবং অসুস্থতার চিকিৎসার রেকর্ড রাখিতে হইবে এবং প্রয়োজনে পরিদর্শক সমীপে উহা উপস্থাপন করিতে হইবে।

(৮) পরিদর্শক কর্তৃক, সময়ে সময়ে, জারিকৃত নির্দেশিত মাত্রায় ওষুধপত্র ডিসপেনসারীতে সংরক্ষণ করিতে হইবে।

২০২২ সালের সংশোধন (এই বিধিতে)

বিধি ৭৭ এর উপ-বিধি (১) এর শর্তাংশের প্রান্তস্থিত ‘।’ দাড়ি এর পরিবর্তে ‘:’ কোলন প্রতিস্থাপিত হইবে এবং অতঃপর নিম্নরূপ নূতন শর্তাংশ সংযোজিত হইবে, যথা: “আরও শর্ত থাকে যে, কোন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকগণ তিন শিফটে কাজ করিলে রাতের শিফটে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরিবর্তে একজন ডিপ্লোমা সনদধারী মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট থাকিবে।”;

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ৪৬
বিধি ৭৮

স্বাস্থ্য কেন্দ্র (Health Centre)

—( ১) ধারা ৮৯(৬) এর বিধান মোতাবেক একই মালিকের অধীন যে সকল প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানসমূহ একই ভবনে বা একই স্থানে অবস্থিত সেইখানে পাঁচ হাজার বা ততোধিক শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত থাকিলে—

(ক) প্রতিষ্ঠানের মালিক একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্র্রতিষ্ঠা করিবেন এবং অনুরূপ প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শ্রমিকদের কাজ চলাকালীন চিকিৎসা করিবার জন্য নিম্নবর্ণিত মেডিক্যাল স্টাফ থাকিতে হইবে, যথা:- (অ) ৫,০০০ হইতে ৭,৫০০ শ্রমিকের জন্য ন্যূনতম দুইজন রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক ; (আ) ৭,৫০১ বা তদূর্ধ্বের জন্য ন্যূনতম তিন জন রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক; এবং (ই) প্রতি চিকিৎসকের জন্য ন্যূনতম একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স এবং ন্যূনতম একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ড্রেসার :

তবে শর্ত থাকে যে, একাধিক চিকিৎসক নিয়োগের বিধান থাকিলে অন্ততপক্ষে একজন মহিলা চিকিৎসক নিয়োগের চেষ্টা করিতে হইবে;

(খ) বিধি ৭৭ মোতাবেক পৃথক চিকিৎসা কক্ষের প্রয়োজন হইবে না, তবে প্রত্যেক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কমপক্ষে ৬টি শয্যা রাখিতে হইবে;

(গ) পাঁচ হাজারের উর্ধ্বে প্রতি হাজার শ্রমিকের জন্য ১ টি হারে শয্যা সংখ্যা বাড়াইতে হইবে এবং প্রতিটি শয্যার জন্য মেঝের আয়তন কমপক্ষে ৩.৭২ বর্গমিটার জায়গা বরাদ্দ করিতে হইবে; তবে জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে মালিক, মহাপরিদর্শককে অবগত করিয়া মেঝের আয়তন শিথিল করিতে পারিবেন ;

(ঘ) প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিম্নবর্ণিত ব্যবস্থা থাকিতে হইবে, যথা:— (অ) পুরুষ ও মহিলাদের পৃথক শয্যা; (আ) পৃথক শৌচাগার ও প্রক্ষালণ কক্ষসহ সংক্রামক ব্যাধির জন্য একটি শয্যাসহ পৃথক কক্ষ; (ই) বহির্বিভাগের রোগীদের জন্য ঘেরাও করা বসার জায়গাসহ পৃথক বিভাগ; (ঈ) রোগীদের গোপনে পরীক্ষার জন্য পৃথক কক্ষ; (উ) ছোটখাটো অস্ত্রোপচার ও ড্রেসিং কক্ষ; (ঊ) ডিসপেনসারীর ঔষধ রাখিবার স্টোর; (ঋ) চিকিৎসাধীন শয্যাশায়ী শ্রমিককে বিনামূল্যে ঔষধ ও খাবার সরবরাহ করা; (এ) পরিবার কল্যাণ ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদানের ব্যবস্থা; (ঐ) প্রসূতি মহিলা শ্রমিকদের প্রসব পূর্ব এবং প্রসব পরবর্তী সেবা ও পরামর্শ প্রদানের ব্যবস্থা; এবং (ও) রেজিস্টার্র্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্লিনিক্যাল এক্স-রে, ফিজিক্যাল থেরাপি, ইত্যাদি, প্রয়োজন হইলে, মালিকের খরচে যথাসময়ে উহা ব্যবস্থা করা :

তবে শর্ত থাকে যে, মালিক যদি মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শকের অনুমতিক্রমে অনুমোদিত অন্য কোন নিকটবর্তী হাসপাতালে শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করিতে পারেন, তাহা হইলে উক্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরী, এক্স-রে ও ফিজিক্যাল থেরাপী বিভাগ না থাকিলেও চলিবে :

আরও শর্ত থাকে যে, প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করিবার উপযোগী স্থান সংকুলান না হইলে মালিক মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শকের অনুমতিক্রমে এবং অনুমোদিত অন্য কোন নিকটবর্তী হাসপাতালের সহিত লিখিত কোন চুক্তি মারফত শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করিতে পারিবেন।

(২) স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিম্নবর্ণিত সুবিধা থাকিতে হইবে, যথা:—

(ক) প্রতিষ্ঠানের সকল শ্রমিকের ইনডোর ও আউটডোর চিকিৎসা সুবিধা;

(খ) স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাহিরে চুক্তিবদ্ধ হাসপাতালে বা প্যাথলজিক্যাল ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চিকিৎসা করিতে হইলে মালিক কর্তৃক কর্মক্ষেত্র হইতে বিনা খরচে শ্রমিকের যাতায়াতের ব্যবস্থা।

(৩) একই ভবনে বা পাশাপাশি ভবনে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ যৌথভাবে স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবেন এবং এইরূপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র—

(ক) যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত পরিকল্পনা ও নকশা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠা করিতে হইবে ;

(খ) উপ-বিধি (১) ও (২) অনুযায়ী চিকিৎসা সুবিধাদি সম্পন্ন হইতে হইবে ।

(৪) কোন মালিক এইরূপ যৌথ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তাহাদের প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের জন্য চিকিৎসা সেবা প্রদানের ইচ্ছা পোষণ করিলে তিনি তাহার প্রতিষ্ঠানের নিকটবর্তী যৌথ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মালিকদের সিদ্ধান্তক্রমে উহা করিতে পারিবেন এবং উহা মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শককে লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে এবং সেই ক্ষেত্রে মহাপরিদর্শক বা তাহার ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক এইরূপ যৌথ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মালিকগণকে উপ-বিধি (১) হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন।

(৫) সরকারের জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের সহিত আলোচনাক্রমে মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক যাহা নির্ধারণ করিবেন অনুরূপ সাজ-সরঞ্জাম, ইন্জেকশন, ঔষধ ও যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা প্রতি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থাকিতে হইবে।

(৬) প্রত্যেক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বশীল মেডিকেল অফিসার উহাতে চিকিৎসাধীন বা চিকিৎসাপ্রাপ্ত প্রত্যেক রোগীর জন্য মেডিক্যাল রেকর্ড সংরক্ষণ করিবেন।

(৭) স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনা সংক্রান্ত বার্ষিক রিটার্ন ফরম-৮১(ঝ) অনুযায়ী এবং বিধি ৩৬২(২)(খ) এর বিধান অনুযায়ী প্রেরণ করিতে হইবে।

২০২২ সালের সংশোধন (এই বিধিতে)

বিধি ৭৮ এর উপ-বিধি (১) এর (ক) দফা (ঘ) এর উপ-দফা (এ) তে উল্লিখিত ‘প্রশিক্ষণ ও’ শব্দ ও বর্ণের পর ‘মহিলা শ্রমিকের স্যানেটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের’ শব্দসমূহ সন্নিবেশিত হইবে; (খ) দফা (ঘ) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (ঙ) সংযোজিত হইবে, যথা: ‘‘()কারখানার গেইটে বা নোটিস বোর্ডে কারখানার সহিত চুক্তিবদ্ধ ঙ হাসপাতালের নাম, ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বরের উল্লেখ থাকিবে।’’;

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ৪৮
বিধি ৭৯

কল্যাণ কর্মকর্তা

(১) ধারা ৮৯ (৮) এর বিধান মোতাবেক কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উহাতে নিযুক্ত শ্রমিকের সংখ্যা ৫০০ জন বা ততোধিক থাকিলে এবং চা-বাগান বা অন্যান্য বাগানের ক্ষেত্রে শ্রমিকের সংখ্যা ৫০০ জন বা ইহার অধিক হইলে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন কল্যাণ কর্মকর্তা থাকিতে হইবে :

তবে শর্ত থাকে যে, শ্রমিকের সংখ্যা যদি দুই হাজারের অধিক হয় তাহা হইলে, প্রতি দুই হাজার এবং অতিরিক্ত ভগ্নাংশের জন্য একজন করিয়া অতিরিক্ত কল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে হইবে।

(২) কল্যাণ কর্মকর্তাদের কর্তব্য হইবে নিম্নরূপ, যথা :—

(ক) শ্রমিকদের বিভিন্ন কমিটি ও যৌথ উৎপাদন কমিটি, সমবায় সমিতি ও ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠনকে উৎসাহিত করা এবং তাহাদের কাজকর্ম তদারক করা;

(খ) বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা যথা— ক্যান্টিন, বিশ্রামাগার, শিশুকেন্দ্র, পর্যাপ্ত শৌচাগারের ব্যবস্থা, পানীয়-জল, ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য রাখা;

(গ) সবেতন ছুটি মঞ্জুরের ব্যাপারে শ্রমিককে সহযোগিতা করা এবং যে কোন ছুটি ও অন্যান্য নিয়ম কানুনের ব্যাপারে শ্রমিকগণকে অবহিত করা;

(ঘ) গৃহ সংস্থান, খাদ্য, সমবায় সমিতিতে ন্যায্য মূল্যের যে কোন প্রতিষ্ঠানে সামাজিক ও বিনোদনমূলক সুযোগ-সুবিধা, স্বাস্থ্য রক্ষা ব্যবস্থা, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ, ইত্যাদি শ্রম কল্যাণমূলক বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখা;

(ঙ) শ্রমিকদের কাজের ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও তাহাদের কল্যাণের বিষয়ে সচেষ্ট থাকা ও সুপারিশ করা;

(চ) নবাগত শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দান, শ্রমিকদের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও কারিগরি ইনস্টিটিউটে তাহাদের প্রশিক্ষণে যোগদানের উৎসাহ ও মনোনয়ন প্রদানে কর্র্তৃপক্ষকে পরামর্শ প্রদান;

(ছ) প্রতিষ্ঠানে আইনের বিধানাবলি বাস্তবায়নে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকগণকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান;

(জ) শ্রমিকদের অধিকতর চিকিৎসা সুবিধার জন্য কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল অফিসারের সহিত যোগাযোগ রক্ষা;

(ঝ) শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা;

(ঞ) মজুরি ও চাকরির শর্তের বিষয়গুলি সম্পর্কে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের প্রতিনিধির সহিত আলোচনা;

(ট) মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিলে সে বিষয়ে আপোস- মীমাংসার জন্য দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা ;

(ঠ) শ্রমিকদের বক্তব্য অনুধাবন করা এবং পারস্পরিক মতপার্থক্য দূর করিবার জন্য মালিক ও শ্রমিকদেরকে সহায়তা করা;

(ড) শ্রমিকদের একক বা সমষ্টিগত কোন অনুযোগ থাকিলে, সেইগুলি ত্বরিৎ নিষ্পত্তির জন্য কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত করা; এবং

(ঢ) কারখানা বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিকদের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রক্ষার জন্য সংযোগ স্থাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠান।

(৩) কল্যাণ কর্মকর্তার যোগ্যতা হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং শ্রম ও শিল্প সম্পর্কিত বিষয়ে অভিজ্ঞ ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত; এবং

(খ) শ্রম আইন, শিল্প সম্পর্ক, অনুযোগ-অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দক্ষতাসম্পন্ন।

(৪) কল্যাণ কর্মকর্তা নিযুক্ত হইবার অথবা তাহার চাকরি অবসান ঘটাইবার ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে কারখানার বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বা মালিককে উহা মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শককে লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে এবং শূন্য পদটি যথাশীঘ্র সম্ভব পূরণ করিতে হইবে।

(৫) কর্তৃপক্ষ কল্যাণ কর্মকর্তাকে উপ-বিধি (২) এ বর্ণিত দায়িত্বাবলি সম্পাদনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করিবে।

২০২২ সালের সংশোধন (এই বিধিতে)

বিধি ৭৯ এর উপ-বিধি (৪) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-বিধি (৪) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা: “(৪) কল্যাণ কর্মকর্তা নিযুক্তি হইবার অথবা তাহার চাকরির অবসান ঘটাইবার ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে কারখানার বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বা মালিককে উহা মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শককে এবং মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে এবং শূন্য পদটি যথাশীঘ্র সম্ভব পূরণ করিতে হইবে।’’;

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ৫১

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ — এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত), ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫; বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২; গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি

বাস্তবায়ন নির্দেশিকা

এই ধারার নির্দেশিকা পরবর্তী ধাপে যুক্ত হবে।

নির্দেশিকা ব্যবহারিক সহায়তার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। Buyer code আইনের চেয়ে কঠোর হলে কঠোরটি মানুন।

EPZ-এর সাথে পার্থক্য

EPZ-এর সাথে পার্থক্য

এই ধারার জন্য আলাদা তুলনা নোট এখনও লেখা হয়নি।

EPZ ধারা ৩৫ পাশাপাশি দেখুন
BLA ধারা ৮৯ · প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম

৮৯৷ (১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে সকল কর্ম সময়ে যাহাতে সহজে পাওয়া যায় এমনভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সমৃদ্ধ বাক্স অথবা বিধি দ্বারা নির্ধারিত সরঞ্জাম সমৃদ্ধ আলমিরার ব্যবস্থা করিতে হইবে৷

(২) উক্তরূপ বাক্স বা আলমিরার সংখ্যা, প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ নিয়োজিত প্রত্যেক একশত পঞ্চাশ জন শ্রমিকের জন্য একটির কম হইবে না৷

(৩) প্রত্যেক প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স অথবা আলমিরা এমন একজন দায়িত্বপূর্ণ ব্যক্তির জিম্মায় থাকিবে যিনি প্রাথমিক চিকিত্সায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং যাহাকে প্রতিষ্ঠানের সকল কর্ম সময়ে পাওয়া যাইবে৷

(৪) প্রত্যেক কর্ম-কক্ষে উক্ত ব্যক্তির নাম সম্বলিত একটি নোটিশ টাংগাইয়া দেওয়া হইবে এবং উক্ত ব্যক্তি তাহাকে সহজে সনাক্ত করা যায় মত ব্যাজ পরিধান করিবেন৷

(৫) যে সকল প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ তিনশ বা ততোধিক শ্রমিক নিয়োজিত থাকেন সে সকল প্রতিষ্ঠানে বিধি দ্বারা নির্ধারিত মাপের ও যন্ত্রপাতি সজ্জিত অথবা অন্যান্য সুবিধা সম্বলিত ডিসপেনসারীসহ একটি রোগী কক্ষ থাকিবে, এবং উক্ত কক্ষটি বিধি দ্বারা নির্ধারিত চিকিৎসক ও নার্সিং স্টাফের দায়িত্বে থাকিবে৷

১[(৬) যে সকল প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানসমূহে পাঁচ হাজার বা ততোধিক শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন সেই সকল প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিক বা মালিকগণ বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় একটি স্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনার ব্যবস্থা করিবেন।

(৭) পেশাগত রোগে বা কর্মকালীন দুর্ঘটনায় আক্রান্ত শ্রমিক ও কর্মচারীকে মালিকের নিজ খরচে ও দায়িত্বে উক্ত রোগ, আঘাত বা অসুস্থতা উপযুক্ত বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা করিতে হইবে।

(৮) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে যেখানে ৫০০ জন বা ততোধিক সংখ্যক শ্রমিক নিযুক্ত রহিয়াছেন সেই সব প্রতিষ্ঠানের মালিক বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগ করিবেন।]

EPZ ধারা ৩৫ · স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত সাধারণ বিধান

৩৫। (১) প্রত্যেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকের তাহার শিল্প প্রতিষ্ঠান বা কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের জন্য মানসম্মত নিরাপদ কর্মক্ষেত্র এবং স্বাস্থ্যসম্মত ও স্বাভাবিক কর্ম পরিবেশ প্রদান ও উহার রক্ষণাবেক্ষণ করা দায়িত্ব ও কর্তব্য।

(২) প্রত্যেক মালিক, তাহার প্রতিষ্ঠানে প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিম্নবর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন-

(ক) মানুষের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য নিরাপদ কারখানা ভবন ও ভবনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা, মেঝে, সিঁড়ি এবং যাতায়াত পথ এবং যন্ত্রপাতি বা প্ল্যান্ট বা কাজের সিস্টেম (working system) প্রদান ও রক্ষণাবেক্ষণ;

(খ) কোনো দ্রব্য, পদার্থ, ইত্যাদির ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং বহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির অনুপস্থিতি নিশ্চিত করা;

(গ) কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রত্যেক শ্রমিককে কাজের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও ক্ষেত্রমত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতন করা;

(ঘ) বিনামূল্যে নিরাপত্তা উপকরণ, বিপজ্জনক যন্ত্রপাতি, বিষাক্ত কেমিক্যাল অথবা বিশেষ কোনো কাজে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য শ্রমিকদেরকে যথাযথ নিরাপত্তামূলক পোশাক ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহ;

(ঙ) প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, কারখানা ভবনের প্রত্যেক তলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ, এবং শ্রমিকগণকে এই সকল নিরাপত্তা উপকরণ ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বা নোটিশের ব্যবস্থা;

(চ) যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অথবা ভিন্ন অবস্থায় থাকিবার সময় যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা বিধান করা;

(ছ) উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে উত্থিত গ্যাস, ধোঁয়া, বাষ্প বা ধূলা এমন প্রকৃতির বা এমন পরিমাণের হয় যে, উহা বিষ্ফোরিত বা প্রজ্জলিত হইবার সম্ভাবনা থাকে, সেই ক্ষেত্রে উক্তরূপ বিষ্ফোরণ বন্ধ করিবার জন্য সর্বপ্রকার ব্যবস্থা;

(জ) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে পুরুষ এবং মহিলা শ্রমিকগণের জন্য স্বতন্ত্র ও পর্যাপ্ত শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষের ব্যবস্থা এবং এইগুলি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্য সম্মত রাখা;

(ঝ) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে, উহাতে কর্মরত সকল শ্রমিকের পান করিবার জন্য উহার কোনো সুবিধাজনক স্থানে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ;

(ঞ) সেইফটি রেকর্ড বুক সংরক্ষণ, সেইফটি কমিটি গঠন, কল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগ, ধৌতকরণ সুবিধা, ক্যান্টিন, শিশুকক্ষ, ইত্যাদি কল্যাণমূলক ব্যবস্থা;

(ট) কর্ম পরিচালনায় নিযুক্ত কোনো ব্যক্তির শারীরিক জখম, বিষাক্রান্ত বা ব্যাধিতে আক্রান্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

(৩) কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানে প্রবিধান দ্বারা স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ নির্ধারণ করিবে-

(ক) উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে সৃষ্ট কোনো বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা;

(খ) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বায়ু চলাচল ও তাপমাত্রা, ধূলা-বালি ও ধোঁয়া, কৃত্রিম আর্দ্রকরণ, অতিরিক্ত ভীড়, আলোর ব্যবস্থা, আবর্জনা বাক্স ও পিকদানী, ইত্যাদির ব্যবস্থা;

(গ) যন্ত্রপাতি ঘিরিয়া রাখা, চলমান যন্ত্রপাতির উপরে বা নিকটে কাজ, স্ট্রাইকিং গিয়ার এবং শক্তি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করিবার পন্থা, ক্রেন এবং অন্যান্য উত্তোলন যন্ত্রপাতি, হয়েস্ট এবং লিফট, ঘূর্ণায়মান যন্ত্রপাতি, প্রেসার প্ল্যান্ট, অতিরিক্ত ওজন, বিপজ্জনক বিস্ফোরক বা দাহ্য গ্যাস, ধূলা, ধোঁয়া, ইত্যাদির বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং চোখের নিরাপত্তা;

(ঘ) বিপজ্জনক চালনা, বিপজ্জনক ঘটনা, দুর্ঘটনা, ব্যাধি ইত্যাদি সম্পর্কে নোটিশের ব্যবস্থা;

(ঙ) ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশ নির্ণয় অথবা উহার স্থায়িত্ব পরীক্ষার ক্ষমতা, দুর্ঘটনা বা ব্যাধি সম্পর্কে তদন্তের নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা, নমুনা সংগ্রহের ক্ষমতা, কতিপয় বিপদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের ক্ষমতা, বিপজ্জনক ভবন এবং যন্ত্রপাতি সম্বন্ধে তথ্য প্রদান, কতিপয় কাজে মহিলা শ্রমিকগণের নিয়োগে বাধা নিষেধ;

(চ) কারখানা ভবন ও অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কিত নিরাপত্তা।