RMG Code — Rules for a Better TomorrowRMG Code
শ্রম আইন
ধারা৯০ক

সেইফটি কমিটি গঠন

২০২৬ সালে সংশোধিত৫টি বিধিনির্দেশিকা আছে

আইনের টেক্সট

১[৯০ক। (১) পঞ্চাশ বা তদূর্ধ্ব সংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত রহিয়াছেন এমন প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় সেইফটি কমিটি গঠন এবং উহাকে কার্যকর করিতে হইবে।

(২) সেইফটি কমিটি চিহ্নিত ঝুঁকি, দুর্ঘটনা, বিপজ্জনক ঘটনা এবং রোগ সম্পর্কে মালিক বা তাহার প্রতিনিধিদেরকে অবহিত করিবে।]

সংশোধনী টীকা (১)
  1. ধারা ৯০ক বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন) এর ২৬ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন), ধারা ৯০ক — bdlaws.minlaw.gov.bd। সংকলিত পাঠ: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন, ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর) পর্যন্ত। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬।

সংশ্লিষ্ট বিধি

বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ · এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫
সংশোধন: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২, গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২
বিধি ৮১

সেইফটি কমিটি গঠন, ইত্যাদি

(১) ধারা ৯০ক অনুযায়ী ৫০ (পঞ্চাশ) বা তদূর্ধ্ব সংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত রহিয়াছেন বা বৎসরের কোন এক সময় নিয়োজিত থাকেন এমন প্রত্যেক কারখানার বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ সেইফটি কমিটি গঠন করিবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, বিদ্যমান কারখানাসমূহের ক্ষেত্রে এই বিধিমালা কার্যকর হইবার তারিখ হইতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে এবং এই বিধিমালা কার্যকর হইবার পরে স্থাপিত কারখানাসমূহের ক্ষেত্রে উৎপাদন চালু হইবার ৯ (নয়) মাসের মধ্যে সেইফটি কমিটি গঠন করিতে হইবে এবং ধারা ১৮৩ অনুযায়ী ঘোষিত প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের মালিকগণও এলাকাভিত্তিক অথবা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের আওতা এক উপজেলার অধিক হইলে উপজেলাভিত্তিক সেইফটি কমিটি গঠন করিবেন।

(২) সেইফটি কমিটিতে মোট সদস্য সংখ্যা ৬ (ছয়) এর কম এবং ১২ (বার) এর অধিক হইবে না এবং উহাতে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের সমসংখ্যক প্রতিনিধি থাকিবে।

(৩) কমিটিতে একজন সভাপতি, একজন সহ-সভাপতি, একজন সদস্য-সচিব ও সদস্যগণ থাকিবেন।

(৪) প্রথম সভায় সদস্যগণ সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে একজন সদস্য-সচিব নির্বাচন করিবেন।

(৫) কমিটি উহার সদস্যগণের মধ্য হইতে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ কোন ক্ষেত্রের এবং বিভিন্ন শাখা বা বিভাগের দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে।

(৬) কমিটি উহার সভাপতি ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিগণকে কারখানা বা শিল্প- প্রতিষ্ঠানের মালিক বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোনয়ন প্রদান করিবেন এবং সহ-সভাপতি ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিগণ যৌথ দরকষাকষি (সিবিএ) অথবা অংশগ্রহণকারী কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধিগণ কর্তৃক কর্মরত শ্রমিকদের মধ্য হইতে মনোনীত হইবেন।

(৭) শ্রমিকের সংখ্যা অনুযায়ী সেইফটি কমিটির সদস্য সংখ্যার আনুপাতিক হার হইবে নিম্নরূপ, যথা:—

(ক) ৫০ (পঞ্চাশ) হইতে ৫০০ (পাঁচশত) জন শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন এমন কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানে সেইফটি কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা হইবে সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) জন;

(খ) ৫০১ (পাঁচশত এক) হইতে ১০০০ (এক হাজার) জন শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন এমন কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানে সেইফটি কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা হইবে সর্বোচ্চ ৮ (আট) জন;

(গ) ১০০১ (এক হাজার এক) হইতে ৩০০০ (তিন হাজার) জন শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন এমন কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানে সেইফটি কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা হইবে সর্বোচ্চ ১০ (দশ) জন;

(ঘ) ৩০০১ (তিন হাজার এক) হইতে তদুর্ধ্ব শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন এমন কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানে সেইফটি কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা হইবে সর্বোচ্চ ১২ (বার) জন।

(৮) কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখা, বিভাগ, ফ্লোর, গোডাউন এবং ইউনিটে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্য হইতে সেইফটি কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়ন করিবে।

(৯) কোন কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি না থাকিলে উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারী কমিটির শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিগণ উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখা, বিভাগ, ফ্লোর, গোডাউন এবং ইউনিটে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্য হইতে সেইফটি কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়ন করিবে।

(১০) সেইফটি কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়নের ক্ষেত্রে অনিবার্য কোন কারণে বা উপরি-উক্ত উপ-বিধি (৮) ও (৯) অনুযায়ী সেইফটি কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়নের উদ্যোগ গ্রহণ না করিলে এইরূপ বিষয় অবগত হইলে মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি কর্মরত শ্রমিকগণের মধ্য হইতে নির্বাচনের মাধ্যমে সেইফটি কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচিত করিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি অথবা অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠিত হইবার পর ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উহা উপ-বিধি (৮) ও (৯) অনুযায়ী সেইফটি কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়ন করিবে।

(১১) শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনীত হইবার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে মালিক তাহার প্রতিনিধিদের মনোনয়ন প্রদান করিবেন এবং এইরূপ মনোনয়ন প্রদানের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে সভাপতি সেইফটি কমিটির সহ-সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের সহিত আলোচনাক্রমে সেইফটি কমিটির প্রথম সভা আহবান করিবেন।

(১২) সেইফটি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠানের ১০ (দশ) দিনের মধ্যে সভাপতি সেইফটি কমিটি গঠনের বিষয়টি লিখিতভাবে মহাপরিদর্শককে অবহিত করিবেন।

(১৩) কোন প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ মহিলা শ্রমিক থাকিলে শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়নে কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ মহিলা প্রতিনিধি মনোনীত করিতে হইবে।

(১৪) যদি কোন কারণে সেইফটি কমিটি কারখানা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণের প্রয়োজন অনুভব করে তবে কমিটি উক্তরূপ মতামত গ্রহণ করিতে পারিবে।

২০২২ সালের সংশোধন (এই বিধিতে)

বিধি ৮১ এর (ক) উপ-বিধি (৪) এর প্রান্তস্থিত ‘।’ দাড়ি এর পরিবর্তে ‘:’ কোলন প্রতিস্থাপিত হইবে এবং অতঃপর নিম্নরূপ নূতন শর্তাংশ সংযোজিত হইবে, যথা: ‘‘তবে শর্ত থাকে যে, কারখানায় বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিংপ্রাপ্ত সেইফটি কর্মকর্তা থাকিলে তিনি সেইফটি কমিটির মালিকপক্ষের সদস্য হিসাবে থাকিবেন এবং তিনিই কমিটির সদস্য-সচিব হিসাবে দায়িত্বপালন করিবেন।”; (খ) উপ-বিধি (১০) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-বিধি (১০) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা: “(১০) সেইফটি কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়নের ক্ষেত্রে অনিবার্য কোন কারণে বা উপ-বিধি (৮) ও (৯) অনুযায়ী সেইফটি কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়নের উদ্যোগ গ্রহণ না করিলে এইরূপ বিষয় অবগত হইলে মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিককে অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠনপূর্বক শ্রমিক প্রতিনিধির মনোনয়ন প্রদানের জন্য অনুরোধ করিবেন: তর্বে শর্ত থাকে যে, এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি অথবা অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠিত হইবার পর ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উহা উপ-বিধি (৮) ও (৯) অনুযায়ী সেইফটি কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়ন করিবে।”;

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ৫৩
বিধি ৮২

সেইফটি কমিটির পদ শূন্য হওয়া ও শূন্য পদ পূরণ

(১) কমিটি গঠনের পরবর্তীতে কোন সদস্যের পদত্যাগ, চাকরি হইতে অবসর, চাকরি ত্যাগ, মৃত্যু বা অন্য কোন যৌক্তিক কারণে সদস্য পদ শূন্য ঘোষিত হইলে সেইফটি কমিটির কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনক্রমে উক্ত শূন্য পদ পূরণ করা যাইবে :

তবে শর্ত থাকে যে, শ্রমিক প্রতিনিধি শ্রমিকগণের মধ্য হইতে এবং মালিক প্রতিনিধি মালিক দ্বারা মনোনীত প্রতিনিধি হইবেন।

(২) সেইফটি কমিটির কোন সদস্য পদে কোনরূপ পরিবর্তন ঘটিলে পরিবর্তন হইবার ১৫(পনের) দিনের মধ্যে মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শককে অবহিত করিতে হইবে।

২০২২ সালের সংশোধন (এই বিধিতে)

বিধি ৮২ এর উপ-বিধি (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-বিধি (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা: “(১) সেইফটি কমিটি গঠনের পরবর্তীকালে কোন সদস্যের পদত্যাগ, চাকরি হইতে অবসর, চাকরি ত্যাগ, মৃত্যু বা অন্য কোন যৌক্তিক কারণে সদস্যপদ শূন্য ঘোষিত হইলে সিবিএ বা অংশগ্রহণ কমিটি শ্রমিকগণের মধ্য হইতে শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনীত করিবে এবং মালিকপক্ষ মালিক প্রতিনিধি মনোনীত করিবে।’’;

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ৫৫
বিধি ৮৩

সেইফটি কমিটির মেয়াদ

— সেইফটি কমিটির মেয়াদ হইবে সেইফটি কমিটির প্রথম সভার তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর।

২০২২ সালের সংশোধন (এই বিধিতে)

বিধি ৮৩ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ বিধি ৮৩ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা: “৮৩। সেইফটি কমিটির মেয়াদ।(১) সেইফটি কমিটির মেয়াদ হইবে সেইফটি কমিটির প্রথম সভার তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর। (২) মেয়াদ শেষ হইবার পূর্ববর্তী ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে পরবর্তী কমিটি গঠিত হইবে এবং নবগঠিত কমিটি পূর্ববর্তী কমিটির মেয়াদ অতিক্রান্ত হইবার পর তাহাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করিবে।’’;

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ৫৫
বিধি ৮৪

বিশেষ বিধান

— ৫০ (পঞ্চাশ) জনের কম শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন এমন কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জ পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এই বিধি অনুসরণ করিতে পারিবে।

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ৫৫
বিধি ৮৫

সেইফটি কমিটির কার্যপরিধি, দায়-দায়িত্ব ও এখতিয়ার

— সেইফটি কমিটি তফসিল-৪ এ বর্ণিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করিবে।

বিধির পাতা খুলুনসূত্র: এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পিডিএফ পৃষ্ঠা ৫৫

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ — এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত), ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫; বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২; গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি

বাস্তবায়ন নির্দেশিকা

করণীয়
৫০ বা তার বেশি শ্রমিকের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বিধি অনুযায়ী সেইফটি কমিটি গঠন ও কার্যকর রাখুন (বিধি ৮১–৮৫): ৫০–৫০০ শ্রমিকে সর্বোচ্চ ৬, ৫০১–১০০০-এ ৮, ১০০১–৩০০০-এ ১০, ৩০০১+-এ ১২ জন সদস্য।
কাজ
চিহ্নিত ঝুঁকি, দুর্ঘটনা, বিপজ্জনক ঘটনা ও রোগ সম্পর্কে মালিককে জানানো; নিয়মিত সভা ও পরিদর্শন।
রেকর্ড
গঠনের নোটিশ, সদস্য তালিকা, সভার কার্যবিবরণী, প্রশিক্ষণ, risk assessment, action tracker।

নির্দেশিকা ব্যবহারিক সহায়তার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। Buyer code আইনের চেয়ে কঠোর হলে কঠোরটি মানুন।

EPZ-এর সাথে পার্থক্য

EPZ-এর সাথে পার্থক্য

BLA-তে ৫০+ শ্রমিকের প্রতিষ্ঠানে সেইফটি কমিটি আইনেই বাধ্যতামূলক। EPZ আইনে আলাদা ধারা নেই; ইপিজেড শ্রম বিধিমালার বিধি ৫১–৫৪-এ সেইফটি কমিটির বিধান আছে।

EPZ ধারা ৩৫ পাশাপাশি দেখুন
BLA ধারা ৯০ক · সেইফটি কমিটি গঠন

১[৯০ক। (১) পঞ্চাশ বা তদূর্ধ্ব সংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত রহিয়াছেন এমন প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় সেইফটি কমিটি গঠন এবং উহাকে কার্যকর করিতে হইবে।

(২) সেইফটি কমিটি চিহ্নিত ঝুঁকি, দুর্ঘটনা, বিপজ্জনক ঘটনা এবং রোগ সম্পর্কে মালিক বা তাহার প্রতিনিধিদেরকে অবহিত করিবে।]

EPZ ধারা ৩৫ · স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত সাধারণ বিধান

৩৫। (১) প্রত্যেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকের তাহার শিল্প প্রতিষ্ঠান বা কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের জন্য মানসম্মত নিরাপদ কর্মক্ষেত্র এবং স্বাস্থ্যসম্মত ও স্বাভাবিক কর্ম পরিবেশ প্রদান ও উহার রক্ষণাবেক্ষণ করা দায়িত্ব ও কর্তব্য।

(২) প্রত্যেক মালিক, তাহার প্রতিষ্ঠানে প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিম্নবর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন-

(ক) মানুষের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য নিরাপদ কারখানা ভবন ও ভবনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা, মেঝে, সিঁড়ি এবং যাতায়াত পথ এবং যন্ত্রপাতি বা প্ল্যান্ট বা কাজের সিস্টেম (working system) প্রদান ও রক্ষণাবেক্ষণ;

(খ) কোনো দ্রব্য, পদার্থ, ইত্যাদির ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং বহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির অনুপস্থিতি নিশ্চিত করা;

(গ) কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রত্যেক শ্রমিককে কাজের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও ক্ষেত্রমত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতন করা;

(ঘ) বিনামূল্যে নিরাপত্তা উপকরণ, বিপজ্জনক যন্ত্রপাতি, বিষাক্ত কেমিক্যাল অথবা বিশেষ কোনো কাজে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য শ্রমিকদেরকে যথাযথ নিরাপত্তামূলক পোশাক ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহ;

(ঙ) প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, কারখানা ভবনের প্রত্যেক তলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ, এবং শ্রমিকগণকে এই সকল নিরাপত্তা উপকরণ ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বা নোটিশের ব্যবস্থা;

(চ) যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অথবা ভিন্ন অবস্থায় থাকিবার সময় যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা বিধান করা;

(ছ) উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে উত্থিত গ্যাস, ধোঁয়া, বাষ্প বা ধূলা এমন প্রকৃতির বা এমন পরিমাণের হয় যে, উহা বিষ্ফোরিত বা প্রজ্জলিত হইবার সম্ভাবনা থাকে, সেই ক্ষেত্রে উক্তরূপ বিষ্ফোরণ বন্ধ করিবার জন্য সর্বপ্রকার ব্যবস্থা;

(জ) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে পুরুষ এবং মহিলা শ্রমিকগণের জন্য স্বতন্ত্র ও পর্যাপ্ত শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষের ব্যবস্থা এবং এইগুলি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্য সম্মত রাখা;

(ঝ) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে, উহাতে কর্মরত সকল শ্রমিকের পান করিবার জন্য উহার কোনো সুবিধাজনক স্থানে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ;

(ঞ) সেইফটি রেকর্ড বুক সংরক্ষণ, সেইফটি কমিটি গঠন, কল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগ, ধৌতকরণ সুবিধা, ক্যান্টিন, শিশুকক্ষ, ইত্যাদি কল্যাণমূলক ব্যবস্থা;

(ট) কর্ম পরিচালনায় নিযুক্ত কোনো ব্যক্তির শারীরিক জখম, বিষাক্রান্ত বা ব্যাধিতে আক্রান্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

(৩) কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানে প্রবিধান দ্বারা স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ নির্ধারণ করিবে-

(ক) উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে সৃষ্ট কোনো বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা;

(খ) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বায়ু চলাচল ও তাপমাত্রা, ধূলা-বালি ও ধোঁয়া, কৃত্রিম আর্দ্রকরণ, অতিরিক্ত ভীড়, আলোর ব্যবস্থা, আবর্জনা বাক্স ও পিকদানী, ইত্যাদির ব্যবস্থা;

(গ) যন্ত্রপাতি ঘিরিয়া রাখা, চলমান যন্ত্রপাতির উপরে বা নিকটে কাজ, স্ট্রাইকিং গিয়ার এবং শক্তি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করিবার পন্থা, ক্রেন এবং অন্যান্য উত্তোলন যন্ত্রপাতি, হয়েস্ট এবং লিফট, ঘূর্ণায়মান যন্ত্রপাতি, প্রেসার প্ল্যান্ট, অতিরিক্ত ওজন, বিপজ্জনক বিস্ফোরক বা দাহ্য গ্যাস, ধূলা, ধোঁয়া, ইত্যাদির বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং চোখের নিরাপত্তা;

(ঘ) বিপজ্জনক চালনা, বিপজ্জনক ঘটনা, দুর্ঘটনা, ব্যাধি ইত্যাদি সম্পর্কে নোটিশের ব্যবস্থা;

(ঙ) ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশ নির্ণয় অথবা উহার স্থায়িত্ব পরীক্ষার ক্ষমতা, দুর্ঘটনা বা ব্যাধি সম্পর্কে তদন্তের নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা, নমুনা সংগ্রহের ক্ষমতা, কতিপয় বিপদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের ক্ষমতা, বিপজ্জনক ভবন এবং যন্ত্রপাতি সম্বন্ধে তথ্য প্রদান, কতিপয় কাজে মহিলা শ্রমিকগণের নিয়োগে বাধা নিষেধ;

(চ) কারখানা ভবন ও অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কিত নিরাপত্তা।