তহবিলদ্বয়ের ব্যবস্থাপনা
আইনের টেক্সট
২৩৫৷ (১) অংশগ্রহণ তহবিল ও কল্যাণ তহবিল স্থাপিত হইবার পর যথাশীঘ্র সম্ভব নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হইবে, যথাঃ-
(ক) কোম্পানীর যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি ১[বা অংশগ্রহণকারী কমিটি] কর্তৃক মনোনীত দুইজন সদস্য এবং এইরূপ কোন প্রতিনিধি না থাকিলে, কোম্পানীর শ্রমিকগণ কর্তৃক তাহাদের নিজেদের মধ্য হইতে নির্বাচিত দুইজন সদস্য; এবং
(খ) কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মনোনীত দুইজন সদস্য, যাহাদের মধ্যে অন্ততঃ একজন হইবেন কোম্পানীর হিসাব শাখা হইতে মনোনীত ব্যক্তি৷
(২) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যগণ পালাক্রমে উপ-ধারা (১) (ক) ও (১) (খ) এর অধীন সদস্যগণের মধ্য হইতে প্রত্যেক বত্সরের জন্য উহার একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করিবেন, তবে প্রথম চেয়ারম্যান উপ-ধারা (১)(খ) এর অধীন সদস্যগণের মধ্য হইতে হইবে৷
(৩) এই অধ্যায় এবং এতদ্উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধির বিধান অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ড তহবিলদ্বয়ের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা করিবে৷
(৪) ট্রাস্টি বোর্ড উহার ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে সরকার কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত নির্দেশের অধীন থাকিবে৷
(৫) সরকার যদি এই মত পোষণ করে যে, ট্রাস্টি বোর্ড বা উহার কোন সদস্য দায়িত্ব পালনে পুনঃ পুনঃ ব্যর্থ হইতেছে অথবা সাধারণতঃ তহবিলদ্বয়ের লক্ষ্য ও স্বার্থের সহিত অসংগতিপূর্ণভাবে কাজ-কর্ম করিতেছে তাহা হইলে সরকার, বোর্ড বা সদস্যটিকে কারণ দর্শাইবার সুযোগ দান করিয়া, আদেশ দ্বারা-
(ক) উহাতে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বোর্ড বাতিল করিতে পারিবে, অথবা সদস্যটিকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে; এবং
(খ) ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা উক্ত সদস্যের পদে নূতন সদস্য মনোনীত বা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বোর্ডের বা উক্ত সদস্যের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, আদেশে উল্লিখিত ব্যক্তি কর্তৃক প্রয়োগ ও পালনের জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে৷
(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন ট্রাস্টি বোর্ড বাতিল হইবার পর, উহার সদস্যগণ তাহাদের পদে আর বহাল থাকিবেন না এবং এই অধ্যায়ে বা কোন বিধিতে ট্রাস্টি বোর্ডের উল্লেখ থাকিলে উহা উক্ত উপ-ধারার অধীন প্রদত্ত আদেশে উল্লিখিত ব্যক্তিকে বুঝাইবে৷
(৭) বাতিলের মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বেই এই অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠিত হইবে যাহাতে ইহা উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পর উহার কার্যভার গ্রহণ করিতে পারে৷
২[(৮) উপ-ধারা ৫ এর দফা (ক) এ অধীন সরকার কর্তৃক কোন ট্রাস্টি বোর্ড বাতিল করা হইলে অথবা উহার চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যকে অপসারণ করা হইলে উক্ত বোর্ডের সদস্যবৃন্দ অথবা উহার চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট সদস্য ট্রাস্টি বোর্ডে পূনঃনির্বাচিত বা মনোনীত হইতে পারিবেন না।]
সংশোধনী টীকা (২)
- “বা অংশগ্রহণকারী কমিটি” শব্দগুলি “যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি” শব্দের পর বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন) এর ৫৪ ধারাবলে সংযোজিত।
- উপ-ধারা (৮) বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ৬৬ ধারাবলে সংযোজিত।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন), ধারা ২৩৫ — bdlaws.minlaw.gov.bd। সংকলিত পাঠ: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন, ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর) পর্যন্ত। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬।
সংশ্লিষ্ট বিধি
সংশোধন: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২, গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২
‘শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল’ ও ‘শ্রমিক কল্যাণ তহবিল’ এর ব্যবস্থাপনা
(১) কোন কোম্পানি কর্তৃক ধারা ২৩৪ মোতাবেক ‘শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল’ ও ‘শ্রমিক কল্যাণ তহবিল’ স্থাপিত হইবার পর ধারা ২৩৫(১) মোতাবেক তহবিলদ্বয়ের ব্যবস্থাপনার জন্য ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করিতে হইবে।
(২) হিসাব বিভাগ হইতে কোম্পানির মনোনীত ব্যক্তি তহবিলের সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) বোর্ডের কাজ পরিচালনায় সহায়তা করিবার জন্য কোম্পানিকে নিজ খরচে বোর্ডের চেয়ারম্যানের প্রয়োজন মাফিক অফিস স্থাপন এবং দাপ্তরিক কর্মচারীর ব্যবস্থা করিতে হইবে।
(৪) যে সকল সুবিধাভোগী তহবিলদ্বয়ের সুযোগ-সুবিধা লাভের অধিকারী তাহাদের নামের তালিকা সচিব প্রণয়ন করিবেন।
তহবিলদ্বয়ের হিসাব পরিচালনা
(১) ট্রাষ্টি বোর্ড বিধি ২২৭ এ উল্লিখিত তহবিলদ্বয়ের পরিচালনার জন্য যে কোন তফসিলি ব্যাংকে তহবিলদ্বয়ের নামে পৃথক হিসাব শুরু করিবে।
(২) বোর্ডের চার জন সদস্য হিসাব পরিচালনার অধিকারী হইবেন এবং তন্মধ্যে কোম্পানির একজন প্রতিনিধি এবং একজন শ্রমিক প্রতিনিধির যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব হইতে তহবিলদ্বয়ের অর্থ উত্তোলন করা যাইবে।
(৩) কোন কারণে ট্রাস্টি বোর্ডের কোন সদস্যের চাকরির অবসান ঘটিলে তাৎক্ষণিকভাবে তহবিলদ্বয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে তাহার প্রতিনিধিত্ব বিলুপ্ত হইবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে অথবা অন্যকোন ভাবে ট্রাস্টিবোর্ডের কোন সদস্যের পদ শূন্য হইলে উক্তরূপ শূন্যতার ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে ধারা ২৩৫(১) অনুসরণ করিয়া যে পক্ষের প্রতিনিধিত্ব শূন্য হইয়াছে সেই পক্ষ হইতে প্রতিনিধি নির্বাচন অথবা মনোনয়ন করিতে হইবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ — এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত), ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫; বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২; গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি
বাস্তবায়ন নির্দেশিকা
এই ধারার নির্দেশিকা পরবর্তী ধাপে যুক্ত হবে।
নির্দেশিকা ব্যবহারিক সহায়তার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। Buyer code আইনের চেয়ে কঠোর হলে কঠোরটি মানুন।
EPZ-এর সাথে পার্থক্য
EPZ-এর সাথে পার্থক্য
এই ধারার জন্য আলাদা তুলনা নোট এখনও লেখা হয়নি।
EPZ-এ সরাসরি সমতুল্য ধারা এখানে এখনও যুক্ত হয়নি।