RMG Code — Rules for a Better TomorrowRMG Code
শ্রম আইন

বিধি ৪৫ — অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ

বিধি ৪৫

অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ

(১) আইনের ধারা ৩৫(২)(ঙ) এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের প্রতি তলায় প্রতি ১০০০ (এক হাজার) বর্গমিটার আয়তনের মেঝের জন্য ২০০ (দুই শত) লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন পানি ভর্তি একটি ড্রাম এবং ১০ (দশ) লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৪ (চার) টি করিয়া ধাতব পদার্থ দ্বারা নির্মিত লাল রংয়ের খালি বালতি ঝুলন্ত অবস্থায় সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করিতে হইবে এবং প্রতিটি বালতি

(ক) বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী যথাযথ মানের হইতে হইবে;

(খ) পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত অবস্থানে রাখিতে হইবে এবং অগ্নি নির্বাপণ ব্যতীত অন্য কোনো কাজে ব্যবহৃত হইবে না এবং ‘অগ্নি নির্বাপণের জন্য ব্যবহার্য’ লিখা সংবলিত হইতে হইবে;

(গ) কেবল দাহ্য তরল বা অন্য পদার্থ হইতে কোনো স্থানে আগুন লাগিবার ঝুঁকি থাকিলে এবং উক্ত স্থানে পানি ব্যবহারযোগ্য না হইলে এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত স্থানে অগ্নি নির্বাপণের জন্য সর্বদা বালতি ভর্তি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখিতে হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, প্রতিষ্ঠান ফায়ার হাইড্রেন্ট অথবা স্প্রিঙ্কলার দ্বারা সুরক্ষিত হইলে উপরিউক্ত বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে না;

(ঘ) প্রত্যেক ভবনে প্রতি ৮৫০ (আটশত পঞ্চাশ) বর্গমিটার স্থানের জন্য প্রতি তলায় বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী একটি হোজরিল পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত স্থানে স্থাপন করিতে হইবে ও উহাতে অবারিত পানির সংযোগ থাকিবে এবং প্রতি বৎসর অন্যূন একবার উহা পরীক্ষার ব্যবস্থা করিতে হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক অগ্নি নির্বাপণের বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হইলে উহা লিখিতভাবে সংরক্ষণপূর্বক কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই দফার বিধান প্রতিপালন শিথিল করিতে পারিবেন।

(২) ৯০ (নব্বই) বর্গমিটারের অধিক আয়তনের মেঝে বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এবং যেই স্থানে দাহ্য তরল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং দাহ্য ধাতু ব্যতীত অন্য দাহ্য বস্তু হইতে আগুন লাগিবার ঝুঁকি রহিয়াছে সেই প্রতিষ্ঠানে উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত নির্ধারিত বালতির অতিরিক্ত প্রতি ৯০ (নব্বই) বর্গমিটার স্থানের জন্য একটি ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার অগ্নিনির্বাপক বা অনুরূপ ধরনের বহনযোগ্য অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র রাখিতে হইবে।

(৩) যেই সকল প্রতিষ্ঠানে দাহ্য তরল, গ্লোজ বা পেইন্ট হইতে আগুন লাগিবার ঝুঁকি রহিয়াছে সেই সকল প্রতিষ্ঠানে উপ-বিধি (২) এ বর্ণিত মাত্রায় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখিতে হইবে এবং উহা ফোম টাইপ, ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার (এ, বি ও সি টাইপ), কার্বন-ডাই-অক্সাইড অগ্নিনির্বাপক বা অনুরূপ ধরনের হইতে হইবে।

(৪) যেই সকল প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক যন্ত্র হইতে আগুন লাগিবার সম্ভবনা রহিয়াছে সেখানে উপ-বিধি (২) এ বর্ণিত মাত্রায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখিতে হইবে এবং উহা কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ড্রাই ক্যামিকেল পাউডার নির্মিত বা অনুরূপ পদার্থ সংবলিত হইবে এবং বয়লার রুম, জেনারেটর রুম, বৈদ্যুতিক প্রধান সাব-স্টেশন কক্ষে কমপক্ষে ২৫ (পঁচিশ) কেজি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রলি সিস্টেম ফোম টাইপ, ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার (এ, বি ও সি টাইপ) ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড স্থাপন করিতে হইবে।

(৫) যেই সকল প্রতিষ্ঠানে ম্যাগনেশিয়াম, এ্যালুমিনিয়াম বা জিংকের গুঁড়া বা চাঁচ অথবা অন্য দাহ্য ধাতু হইতে আগুন লাগিবার সম্ভবনা রহিয়াছে সেই স্থানে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বা ফোম টাইপের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করা যাইবে না এবং উক্ত স্থানে আগুন নির্বাপণের জন্য ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার (ডি টাইপ), পর্যাপ্ত পরিষ্কার মিহি শুষ্ক বালি, পাথরের গুঁড়া এবং অন্যান্য অদাহ্য পদার্থ মজুদ রাখিতে হইবে।

(৬) প্রত্যেক বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত স্থানে স্থাপন করিতে হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক যেক্ষেত্রে এইরূপ অভিমত প্রদান করেন যে, প্রতিষ্ঠানের ভবন বা কক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী এবং স্বীকৃত পন্থায় পর্যাপ্ত স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হইয়াছে এবং উক্ত স্থান বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই উপ-বিধির শর্ত শিথিল করা যাইতে পারে এবং সেইক্ষেত্রে তিনি উক্ত ভবন বা কক্ষের বিষয়ে যে সকল শর্ত শিথিল করা হইয়াছে উহা লিখিতভাবে এই মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিতে পারিবেন।

(৭) উপ-বিধি (২) এ বর্ণিত প্রতিটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র

(ক) এইরূপ দৃশ্যমান স্থানে স্থাপন করিতে হইবে যেন সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে;

(খ) তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারের জন্য সকল অংশ হইতে প্রবেশযোগ্য স্থানে স্থাপন করিতে হইবে;

(গ) যতদূর সম্ভব প্রত্যেক ফ্লোরের বর্হিগমন হইবার পথ অথবা সিঁড়ির নিকটবর্তী স্থানে স্থাপন করিতে হইবে, তবে লক্ষ্য রাখিতে হইবে যেন কোনো অবস্থাতেই জরুরি নির্গমন বাঁধাগ্রস্ত না হয়;

(ঘ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, দেয়াল অথবা কাঠের, ধাতব ও প্লাস্টিক তৈরি কেবিনেট এইরূপ স্থাপন করিতে হইবে যেন অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের তলদেশ ভূসমতল হইতে ১০০০ (এক হাজার) মি. মি. উপরে হয়;

(ঙ) প্রত্যেক ফ্লোরের একই স্থানে স্থাপন করিতে হইবে; এবং

(চ) ভবনের অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় (যেমন: রান্নাঘর, জনবহুল এলাকা, গুদাম, বৈদ্যুতিক বিভাজন পয়েন্ট, দাহ্যবস্তু সংবলিত এলাকা ইত্যাদি) স্থাপন করিতে হইবে এবং উহা বহনযোগ্য হইবে।

(৮) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের ভবনের প্রত্যেক ফ্লোরে সহজে দৃশ্যমান এক বা একাধিক স্থানে বর্হিগমন পথের দিক নির্দেশনা সংক্রান্ত নকশা প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে।

(৯) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক ধরনের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ স্পেয়ার চার্জ মজুত রাখিতে হইবে এবং প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় এইরূপ অবস্থায় সর্বাধিক স্পেয়ারচার্জ মজুত এবং প্রস্তুত রাখিতে হইবে।

(১০) যতদূর সম্ভব প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক বিভাগে নিযুক্ত শ্রমিকের মধ্য হইতে কমপক্ষে ১৮% (আঠারো শতাংশ) শ্রমিককে অগ্নিনির্বাপণ, জরুরি উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর অথবা সরকার কর্তৃক স্বীকৃত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান হইতে প্রশিক্ষণ প্রদান করিতে হইবে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্রমিকের মধ্য হইতে অগ্নিনির্বাপক দল, উদ্ধারকারী দল ও প্রাথমিক চিকিৎসা দল (প্রতি দলে ৬% সদস্য) গঠন করিয়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করিতে হইবে এবং ফরম-২৩ অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কোর্সের রেকর্ড সংরক্ষণ করিতে হইবে।

(১১) অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধারকারী ও প্রাথমিক চিকিৎসা দলকে কাজ চলাকালীন অবশ্যই নিম্নরূপ পোশাক পরিধান করিতে হইবে যথা:

(ক) অগ্নিনির্বাপণ দল হলুদ রং এর এপ্রোন পরিধান করিবে যাহার পৃষ্ঠদেশে লাল রং এ ‘আগুন’ (Fire) লিখিত থাকিবে;

(খ) উদ্ধারকারী দল হলুদ রং এর এপ্রোন পরিধান করিবে যাহার পৃষ্ঠদেশে লাল রং এ ‘উদ্ধার’ (Rescue) লিখিত থাকিবে;

(গ) প্রাথমিক চিকিৎসা দল সাদা রং এর এপ্রোন পরিধান করিবে যাহার পৃষ্ঠদেশে লাল রং এ ‘প্রাথমিক চিকিৎসা’ (First Aid) লিখিত থাকিবে।

(১২) কমপক্ষে ৫০০ (পাঁচশত) জন শ্রমিক কর্মরত এইরূপ সকল প্রতিষ্ঠান বা কারখানায় বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর অথবা অন্য কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১ (এক) জন সেইফটি কর্মকর্তা রাখিতে হইবে যাহার দায়িত্ব হইবে সকল অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রস্তুত এবং উপ-বিধি (১০) এ উল্লিখিত ৩ (তিন) টি দলকে প্রতি ৬(ছয়) মাস অন্তর প্রশিক্ষণ প্রদান।

(১৩) প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান বা কারখানায় আগুন লাগিলে গৃহীতব্য ব্যবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপক বিধি-বিধান যথাযথ কার্যকর করণের জন্য একটি বিস্তারিত অগ্নি নির্বাপণী পরিকল্পনা প্রস্তুত করিবেন।

(১৪) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণের প্রয়োজনে অন্তত ২০ (বিশ) হাজার গ্যালন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন জলাধার অথবা Bangladesh National Building Code (BNBC), 2020 অনুযায়ী একটি জলাধারের ব্যবস্থা থাকিতে হইবে এবং উহা সর্বদা পানি দ্বারা পূর্ণ থাকিতে হইবে যাহা হোজরিলের সহিত সংযুক্ত রাখিতে হইবে এবং উক্ত জলাধার ভবনের কাঠামোর উপর কোনো প্রকার চাপ বা ঝুঁকি সৃষ্টি করিতে পারিবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, একই ভবনে একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকিলে প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং ভবন মালিক সম্মিলিতভাবে উপরিউক্ত পদ্ধতিতে জলাধার স্থাপন করিতে পারিবে।

(১৫) একই এলাকার পাশাপাশি ভবনে অবস্থিত কয়েকটি কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের মালিক কর্তৃক সম্মিলিতভাবে একটি সুবিধাজনক স্থানে অগ্নিনির্বাপণের উদ্দেশ্যে প্রত্যেক কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের সহিত পাইপের মাধ্যমে সংযুক্ত করিয়া নির্ধারিত পদ্ধতিতে জলাধারের ব্যবস্থা করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক উপ- বিধি (১৪) এর বিধান প্রতিপালন হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন।

(১৬) উপ-বিধি (১৪) এবং উপ-বিধি (১৫) এ উল্লিখিত জলাধার ব্যবস্থার পরিকল্পনা ও নকশা অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শকের অনুমোদনক্রমে বাস্তবায়ন করিতে হইবে।

(১৭) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত পরিমাণে অন্যান্য অগ্নি নির্বাপণী ও উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতি ( যেমন: ফায়ার ব্লাঙ্কেট, ফায়ার বিটার, হুক, ফায়ার বুট, হেলমেট, ফায়ার ড্রেস ইত্যাদি) রাখিতে হইবে।

(১৮) এই বিধিতে বর্ণিত বিষয় প্রতিপালন করিবার ক্ষেত্রে অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৭ নম্বর আইন) এবং তদধীন প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী আরও কোনো কিছু প্রতিপালন করার প্রয়োজন হইলে উহা সম্পাদন করিতে হইবে।

সূত্র: এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ৪ অক্টোবর ২০২২, পিডিএফ পৃষ্ঠা ৩২

সংশ্লিষ্ট ধারা (বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯): ধারা ৩৫

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২; গেজেট ৪ অক্টোবর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি