বিধি ২৯৬ — অংশগ্রহণ তহবিল পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা, অর্থ ব্যয়, ইত্যাদি
অংশগ্রহণ তহবিল পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা, অর্থ ব্যয়, ইত্যাদি
(১) প্রত্যেক মালিক এবং মালিকদের সংগঠন ডাটাবেইজের মাধ্যমে সকল সুবিধাভোগীর তালিকা সংরক্ষণ করবে এবং চাহিদা অনুযায়ী তাহাদের নমিনি বা নমিনির অবর্তমানে উত্তরাধিকারীদের তালিকা কেন্দ্রীয় তহবিল পরিচালনা বোর্ডের নিকট সরবরাহ করিবে।
(২) কেন্দ্রীয় তহবিলের অধীন ২ (দুই) টি হিসাব খুলিতে হইবে যাহার একটি ‘সুবিধাভোগী কল্যাণ হিসাব’ এবং অন্যটি ‘আপাৎকালীন হিসাব’ নামে অভিহিত হইবে।
(৩) তহবিলে প্রাপ্ত মোট অর্থের শতকরা ৫০ (পঞ্চাশ) ভাগ ‘সুবিধাভোগী কল্যাণ হিসাব’ এবং অবশিষ্ট শতকরা ৫০ (পঞ্চাশ) ভাগ ‘আপৎকালীন হিসাবে’ জমা হইবে।
(৪) তহবিলে জমাকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট জোনের সুবিধাভোগী দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতা অথবা কোনো অঙ্গহানী হইলে এককালীন অনুদান হিসাবে প্রদান করা হইবে এবং সুবিধাভোগীর সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ সংক্রান্ত অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা যাইবে।
(৫) উপ-বিধি (৩) এ উল্লিখিত হিসাব হইতে প্রাপ্ত অর্থ আইনের অধীন কারখানা বা প্রতিষ্ঠান হইতে প্রাপ্ত অন্যান্য আইনানুগ সুবিধার অতিরিক্ত হইবে।
(৬) সুবিধাভোগী কল্যাণ হিসাব হইতে নিম্নবর্ণিত ব্যয়সমূহ নির্বাহ করা হইবে, যথা:
(ক) কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত কারণে অথবা পেশাগত রোগে আক্রান্ত হইয়া মৃত্যুবরণ করিলে অথবা পরবর্তীতে মৃত্যু ঘটিলে অথবা কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত কারণে অথবা পেশাগত রোগে আক্রান্ত হইয়া স্থায়ী অক্ষমতা ঘটিলে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী বা তাহার উপযুক্ত উত্তরাধিকারী ও পোষ্যকে ৩ (তিন) লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান;
(খ) কোনো সুবিধাভোগী চাকরিরত অবস্থায় অসুস্থ হইয়া বা কর্মক্ষেত্রের বাহিরে কোনো দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ অথবা স্থায়ীভাবে অক্ষম হইয়া গেলে তিনি বা তাহার উপযুক্ত উত্তরাধিকারীকে ২ (দুই) লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান;
(গ) কোনো সুবিধাভোগী কর্মকালীন দুর্ঘটনায় পতিত হইয়া তাহার কোনো অঙ্গহানি ঘটিলে যাহা স্থায়ী অক্ষমতার কারণ নহে তাহা হইলে তাহাকে অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান;
(ঘ) অসুস্থ সুবিধাভোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা বা আর্থিক অনুদান প্রদান;
(ঙ) সুবিধাভোগীদের পরিবারের মেধাবী সদস্যকে শিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদান;
(চ) তহবিল পরিচালনা ও প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা;
(ছ) সামাজিক নিরাপত্তামূলক সুবিধা হিসাবে বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন; এবং
(জ) উপরিউক্ত কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য যে কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনের ও এই বিধিমালার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অন্য যে কোনো কার্য সম্পাদন।
(৭) আপৎকালীন হিসাব হইতে নিম্নবর্ণিত ব্যয়সমূহ নির্বাহ করা হইবে,যথা:
(ক) সুবিধাভোগীদের গ্রুপ বিমা দাবির সমপরিমাণ অর্থ প্রদান: শর্ত থাকে যে, বিমা দাবির পরিমাণ পরিচালনা বোর্ড নির্ধারণ করিবে:
আরও শর্ত থাকে যে, বিধি ১০৫ এর অধীন যে সকল প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক বিমা চালু রহিয়াছে উহা এই বিধির অধীন গঠিত তহবিল পরিপূর্ণ সচল না হইবা পর্যন্ত স্থগিত করা যাইবে না;
(খ) সুবিধাভোগীদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের জন্য স্বাস্থ্য বিমা স্কিম চালুকরণ;
(গ) বিধি ৩০৯ অনুযায়ী কোনো কারখানা বা প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হইলে বোর্ড কর্তৃক সুবিধাভোগীদের পাওনা অর্থের সমুদয় বা আংশিক পরিশোধ:
তবে শর্ত থাকে যে, বোর্ড মালিকের অসমর্থতা যাচাইপূর্বক উক্তরূপ পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে;
(ঘ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধের জন্য মালিককে স্বল্প মেয়াদি ঋণ প্রদান।
(৮) অংশগ্রহণ তহবিল পরিচালনা, প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে বা অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
সংশ্লিষ্ট ধারা (বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯): ধারা ১৭২ · ধারা ১৭৪
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২; গেজেট ৪ অক্টোবর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি