RMG Code — Rules for a Better TomorrowRMG Code
শ্রম আইন

বিধি ৩২ — অভিযোগ তদন্ত, নিষ্পত্তি ও প্রতিকার

বিধি ৩২

অভিযোগ তদন্ত, নিষ্পত্তি ও প্রতিকার

(১) আইনের ধারা ২৮ এর অধীন মালিকের নিকট অভিযোগ প্রেরণ করার তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে মালিক সিদ্ধান্ত প্রদান করিতে ব্যর্থ হইলে অথবা, ক্ষেত্রমত, বিধি ২৬(৩) অনুযায়ী মালিকের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হইলে কোনো শ্রমিক উক্ত সিদ্ধান্তের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জোনের যুগ্ম মহাপরিদর্শক বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ উপস্থাপন করিতে পারিবেন।

(২) উপ-বিধি (১) এর অধীন অভিযোগ প্রাপ্তির পর যুগ্ম মহাপরিদর্শক এক বা একাধিক কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করিবেন।

(৩) তদন্ত কমিটি ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে যথাযথভাবে সকল পক্ষের শুনানি গ্রহণ করিয়া যুগ্ম মহাপরিদর্শক অথবা এতদুদ্দেশ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রতিবেদন উপস্থাপন করিবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর যুগ্ম মহাপরিদর্শক অথবা এতদুদ্দেশ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উহা যথাযথ বিবেচনাপূর্বক উক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন।

(৪) উপ-বিধি (১), (২) ও (৩) এ যাহা কিছু থাকুক না কেন, যে কোনো শ্রমিকের কোনো বিষয় সম্পর্কে কোনো অভিযোগ থাকিলে এবং তিনি তৎসম্পর্কে এই বিধির অধীন প্রতিকার পাইতে ইচ্ছুক হইলে, তিনি বিষয়টি সরাসরি সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর কাম পরিদর্শকের নিকট উপস্থাপন করিতে পারিবেন এবং কাউন্সিলর কাম পরিদর্শক নিজে বিষয়টি নিষ্পত্তি করিতে পারিবেন অথবা বিশেষ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের জন্য যুগ্ম মহাপরিদর্শক অথবা এতদুদ্দেশ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং যুগ্ম মহাপরিদর্শক যথাযথ বিবেচনাপূর্বক উক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন।

(৫) উপ-বিধি (৩) ও (৪) এর অধীন কোনো সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ কোনো শ্রমিক সিদ্ধান্তের তারিখ হইতে ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে মহাপরিদর্শক বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ উপস্থাপন করিতে পারিবেন।

(৬) উপ-বিধি (৫) এর অধীন অভিযোগ প্রাপ্তির পর মহাপরিদর্শক যুগ্ম মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এইরূপ এক বা একাধিক কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করিবেন এবং উক্ত তদন্ত কমিটি ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে যথাযথ সকল পক্ষের শুনানির পর মহাপরিদর্শক অথবা এতদুদ্দেশ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাহার যথাযথ বিবেচনাপূর্বক উক্ত বিষয়ে যাহা সঠিক ও যথাযথ মনে করিবেন সেইরূপ সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন।

(৭) উপ-বিধি (৪) এর অধীন প্রদত্ত কোনো সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ কোনো শ্রমিক সিদ্ধান্তের তারিখ হইতে ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে ফরম-১৮ অনুযায়ী ইপিজেড শ্রম আদালতে লিখিতভাবে অভিযোগ উপস্থাপন করিতে পারিবেন।

(৮) ইপিজেড শ্রম আদালত অভিযোগ প্রাপ্তির পর উভয়পক্ষকে নোটিশ প্রদান করিয়া অভিযোগটি সম্পর্কে তাহাদের বক্তব্য শ্রবণ করিবে এবং উক্ত আদালতের বিবেচনায় যেইরূপ আদেশ প্রদান সঙ্গত বলিয়া মনে করে সেইরূপ আদেশ প্রদান করিবে।

(৯) উপ-বিধি (৮) এর অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ দ্বারা আদালত অন্যান্য প্রতিকারের মধ্যে অভিযোগকারীকে বকেয়া মজুরিসহ বা ব্যতীত তাহার চাকরিতে পুনর্বহাল করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং কোনো বরখাস্ত, অপসারণ বা ডিসচার্জের আদেশকে কোনো লঘু দণ্ডে পরিবর্তিত করিতে পারিবে।

(১০) ইপিজেড শ্রম আদালতের কোনো আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ কোনো শ্রমিক আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে ইপিজেড শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করিতে পারিবেন এবং উক্ত বিষয়ে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

(১১) এই বিধির অধীন কোনো অভিযোগ বা আপিল দায়েরের জন্য কোনো কোর্ট ফি প্রদেয় হইবে না এবং উল্লিখিত অভিযোগ আইনের অধীন কোনো ফৌজদারী অভিযোগ বলিয়া গণ্য হইবে না।

(১২) এই বিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আইনের ধারা ২২ এর অধীন প্রদত্ত চাকরির অবসানের আদেশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা যাইবে না, যদি না অবসানের আদেশটি সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সদস্য হিসাবে শিল্প বিরোধে জড়িত থাকার কারণে প্রদত্ত হইয়াছে বলিয়া অভিযোগ করা হয় অথবা যদি না শ্রমিক আইনের অধীন প্রাপ্য সুবিধা হইতে বঞ্চিত হন।

সূত্র: এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত) ৪ অক্টোবর ২০২২, পিডিএফ পৃষ্ঠা ২১

সংশ্লিষ্ট ধারা (বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯): ধারা ২২ · ধারা ২৮

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২; গেজেট ৪ অক্টোবর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি