বিধি ১৪৮ — ক্ষতিপূরণ বন্টন, পরিশোধ পদ্ধতি, অবন্টিত অর্থ হস্তান্তর ও বিনিয়োগ
ক্ষতিপূরণ বন্টন, পরিশোধ পদ্ধতি, অবন্টিত অর্থ হস্তান্তর ও বিনিয়োগ
(১) আইনের ধারা ৯২ (গ), (ঘ) ও (চ) এর প্রয়োজনে জখমের ফলে মৃত কোনো শ্রমিক সম্পর্কে প্রদেয় কোনো ক্ষতিপূরণ এবং আইনগত অক্ষমতার অধীন কোনো ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রদেয় থোক অর্থ ইপিজেড শ্রম আদালতে জমা প্রদান ব্যতীত ভিন্ন কোনো পন্থায় পরিশোধ করা যাইবে না।
(২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত কোনো ক্ষতিপূরণ যদি মালিক সরাসরি পরিশোধ করেন তাহা হইলে উহা ক্ষতিপূরণ পরিশোধ বলিয়া গণ্য হইবে না, যদি না সংশ্লিষ্ট শ্রমিক তাহার চাকরিকালীন বিধি ১৪৪ অনুযায়ী জখমজনিত কারণে তাহার মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ গ্রহণের জন্য তাহার কোনো উত্তরাধিকারীকে মনোনীত করিয়া থাকেন এবং সেই মনোনীত উত্তরাধিকারীকে ক্ষতিপূরণ প্রদত্ত হইয়া থাকে।
(৩) উপ-বিধি (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো মৃত শ্রমিকের ক্ষেত্রে তাহার কোনো পোষ্যকে মালিক ক্ষতিপূরণ বাবদ অগ্রিম অর্থ প্রদান করিতে পরিবেন এবং ইপিজেড শ্রম আদালত উক্ত পোষ্যকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণ হইতে উক্ত অগ্রিম কর্তন করিয়া উহা মালিককে ফেরত প্রদান করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো মৃত শ্রমিকের ক্ষেত্রে মৃতের দাফন-কাফন বা চিকিৎসা, মৃত দেহ পরিবহণ, ইত্যাদি বাবদ কোনো অর্থ প্রদান করা হইলে মালিক কর্তৃক অগ্রিম প্রদানকৃত কোনো অর্থ বা ইপিজেড শ্রম আদালতের মাধ্যমে পোষ্যকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণ হইতে উক্ত অর্থ কর্তন করা যাইবে না।
(৪) ইপিজেড শ্রম আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রসিদ জমাকৃত ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে যথেষ্ট দায়মুক্তি হইবে।
(৫) উপ-বিধি (১) এর অধীন কোনো মৃত শ্রমিক সম্পর্কে ক্ষতিপূরণ বাবদ কোনো অর্থ জমা হইলে ইপিজেড শ্রম আদালত প্রয়োজনবোধে তৎকর্তৃক বিবেচিত উপযুক্ত পন্থায় নোটিশ প্রকাশ করিয়া অথবা প্রত্যেক পোষ্যের নিকট উহা জারি করিয়া ক্ষতিপূরণ বন্টন নির্ধারণের জন্য তৎকর্তৃক নির্ধারিত তারিখে উহার সম্মুখে হাজির হইবার জন্য তাহাকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৬) যদি ইপিজেড শ্রম আদালত তৎকর্তৃক প্রয়োজনীয় কোনো তদন্ত শেষে এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোনো পোষ্য বিদ্যমান নাই তাহা হইলে আদালত জমার তারিখ হইতে অন্যূন ২ (দুই) বৎসর পর উহার নিকট জমা অবন্টিত অর্থ শ্রমিকের কল্যাণের জন্য আইনের পঞ্চদশ অধ্যায়ের অধীনে গঠিত অংশগ্রহণ তহবিলে হস্তান্তর করিবে।
(৭) মালিক দরখাস্ত করিলে ইপিজেড শ্রম আদালত তৎকর্তৃক বণ্টনকৃত অর্থের একটি বিস্তারিত বর্ণনা তাহাকে সরবরাহ করিবে।
(৮) কোনো মৃত শ্রমিক সম্পর্কে জমাকৃত ক্ষতিপূরণ উপ-বিধি (৩) এর অধীন কর্তন সাপেক্ষে মৃত শ্রমিকের পোষ্যের মধ্যে অথবা তাহাদের কাহারও মধ্যে এইরূপ অনুপাতে বন্টন করা হইবে যাহা ইপিজেড শ্রম আদালত উপযুক্ত বিবেচনা করিবে অথবা আদালত নিজ বিবেচনায় যে কোনো একজন পোষ্যকে উহা বরাদ্দ করিতে পারিবে।
(৯) যেইক্ষেত্রে ইপিজেড শ্রম আদালতে জমাকৃত কোনো ক্ষতিপূরণ কোনো ব্যক্তিকে প্রদেয় হয় সেইক্ষেত্রে ইপিজেড শ্রম আদালত যে ব্যক্তিকে উহা প্রদেয় তিনি যদি কোনো আইনগত অক্ষমতার অধীন না হন তাহা হইলে তাহাকে প্রদান করিবে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে যিনি উহা পাওয়ার অধিকারী, তাহাকে প্রদান করিতে পারিবে।
(১০) যেইক্ষেত্রে আদালতে জমাকৃত কোনো থোক অর্থ আইনগত অক্ষমতার অধীন কোনো ব্যক্তিকে প্রদেয় হয় সে ক্ষেত্রে, উক্ত অর্থ উক্ত ব্যক্তির উপকারার্থে তাহার অক্ষমতাকালীন সময়ে ইপিজেড শ্রম আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিনিয়োগ বা ব্যবহার করা যাইবে।
(১১) যেইক্ষেত্রে আইনগত অক্ষমতার অধীন কোনো ব্যক্তিকে অর্ধ মাসিক ক্ষতিপূরণ প্রদেয় হয় সেইক্ষেত্রে আদালত স্ব-ইচ্ছায় অথবা কোনো দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ক্ষতিপূরণ তাহার অক্ষমতাকালীন সময় সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের কোনো পোষ্যকে অথবা আদালতের বিবেচনায় উক্ত শ্রমিকের কল্যাণ ব্যবস্থা করার জন্য উপযুক্ত বলিয়া বিবেচিত অন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রদান করার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(১২) যেইক্ষেত্রে কোনো দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে অথবা অন্যভাবে ইপিজেড শ্রম আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোনো মাতা বা পিতা কর্তৃক উহার সন্তানের অবহেলার কারণে, অথবা কোনো পোষ্যের পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে, অথবা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণে, ক্ষতিপূরণ হিসাবে পরিশোধিত কোনো অর্থ বন্টন সম্পর্কে ইপিজেড শ্রম আদালতের কোনো আদেশ অথবা উক্তরূপ কোনো পোষ্যকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের বিনিয়োগ বা ব্যবহার সম্পর্কিত উহার কোনো আদেশ পরিবর্তন করা উচিত তাহা হইলে আদালত উহার উক্ত আদেশ পরিবর্তন করার জন্য অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যেইরূপ নূতন আদেশ দেওয়া প্রয়োজন সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কোনো আদেশ কোনো ব্যক্তির জন্য হানিকর হইলে তাহাকে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান না করিয়া অথবা কোনো ক্ষেত্রে যদি উক্ত আদেশের ফলে কোনো পোষ্য কর্তৃক তাহাকে পরিশোধিত কোনো ক্ষতিপূরণ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হয় তাহা হইলে উক্তরূপ কোনো আদেশ প্রদান করা যাইবে না।
(১৩) যেইক্ষেত্রে ইপিজেড শ্রম আদালত উপ-বিধি (১২) এর অধীন কোনো আদেশ এই কারণে পরিবর্তন করে যে, কোনো ব্যক্তিকে পরিশোধিত ক্ষতিপূরণ তিনি প্রতারণা, মিথ্যা পরিচয়, অথবা অন্য কোনো অসঙ্গত উপায়ে গ্রহণ করিয়াছেন সেইক্ষেত্রে উক্ত পরিশোধিত ক্ষতিপূরণ তাহার নিকট হইতে আদায় করা যাইবে।
(১৪) যেইক্ষেত্রে আদালতে জমাকৃত অর্থ আইনগত অক্ষমতার অধীন কোনো ব্যক্তিকে প্রদেয় হয় সেইক্ষেত্রে ইপিজেড শ্রম আদালতের নিকট জমাকৃত অর্থ সাধারণ শ্রমিকের কল্যাণার্থে আদালত বিধি ২৯৬ এ বর্ণিত অংশগ্রহণ তহবিলের সুবিধাভোগী কল্যাণ হিসাবে হস্তান্তর করিতে পারিবে।
(১৫) আইনগত অক্ষমতার অধীন কোনো ব্যক্তি অক্ষমতা মুক্ত হইলে তাহার অর্থ ফেরত পাইবেন।
(১৬) তহবিল হইতে ক্ষতিপূরণের অর্থ কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করিলে মুনাফাসহ সমুদয় অর্থ আবেদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে ফেরত পাইবেন।
(১৭) আইনগত অক্ষমতার (উত্তরাধিকারী) অধীন কোনো ব্যক্তি যখন আইনগত অক্ষমতা মুক্ত হইবেন তখন তাহাকে তাহার অংশের অর্থ মুনাফাসহ প্রদান করিতে হইবে।
(১৮) ইপিজেড শ্রম আদালত উপ-বিধি (১) বা উপ-বিধি (২) অনুযায়ী গৃহীত কার্যক্রমের রেকর্ড সংরক্ষণ করিবে।
সংশ্লিষ্ট ধারা (বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯): ধারা ৯২
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২; গেজেট ৪ অক্টোবর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি