বিধি ৮৪ — প্রেসার প্ল্যান্ট
প্রেসার প্ল্যান্ট
(১) আইনের ধারা ৩৫(৩)(গ) এর বিধান অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কোনো প্ল্যান্ট বা যন্ত্রপাতির কোনো অংশ স্বাভাবিক বায়ু চাপ অপেক্ষা অধিক চাপে চালিত হইলে
(ক) উপযুক্ত শক্তিসম্পন্ন কার্যকর পদার্থ দ্বারা ত্রুটিহীন ও উত্তমরূপে নির্মিত হইতে হইবে;
(খ) নিরাপদ অবস্থায় যথোপযুক্তভাবে সংরক্ষণ করিতে হইবে;
(গ) নিম্নবর্ণিত সরঞ্জাম দ্বারা সজ্জিত বা নির্মিত হইতে হইবে, যথা: (অ) সর্বোচ্চ চাপ সহনীয় ক্ষমতা অতিক্রান্ত না হয় সে বিষয়ে নিশ্চয়তা বিধায়ক একটি নিরাপত্তা ভাল্ব বা অনুরূপ কার্যকর ব্যবস্থা; (আ) সহজে দৃষ্টিগ্রাহ্য যথোপযুক্ত প্রেসার গেজ বা মিটার; (ই) যথোপযুক্ত স্টপ ভাল্ব; এবং (ঈ) পুঞ্জীভূত তরল পদার্থ নিঃসরণের জন্য নিম্নভাগে যথোপযুক্ত ড্রেন কক বা ভাল্ব সংযোজন:
তবে শর্ত থাকে যে, সেইফটি ভাল্ব, প্রেসার গেজ ও স্টপ ভাল্ব যদি ভ্যাসেলের নিকটবর্তী পাইপ লাইনের উপরে থাকে তাহা হইলে উহা এই দফা অনুযায়ী হইতে হইবে এবং কোনো প্ল্যান্টে এক বা একাধিক ভ্যাসেল একই প্রেসার লোডে চলিলে এক সেট মাউন্টিং সংযোজন করিতে হইবে, তবে উহা পরস্পর হইতে বিচ্ছিন্ন করা যাইবে না;
(ঘ) যোগ্য ব্যক্তির দ্বারা প্রেসার প্ল্যান্ট বা যন্ত্রপাতি নিম্নবর্ণিতভাবে পরীক্ষা করাইতে হইবে, যথা: (অ) ভ্যাসেলের সাধারণ অবস্থা ও উহার ফিটিং এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করিবার জন্য ৬ (ছয়) মাস অন্তর একবার বহির্বিভাগ; (আ) অভ্যন্তর ভাগে প্রতি ১২ (বারো) মাসে একবার ভ্যাসেলের অভ্যন্তরে ও বহির্ভাগ দেয়াল, সিমস ও টাইম ভ্যাসেলের যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা এবং সেরোসনের ত্রুটি:
তবে শর্ত থাকে যে, ভ্যাসেলের নির্মাণগত কারণে অভ্যন্তরে পরীক্ষা করা সম্ভব না হইলে প্রতি ২ (দুই) বৎসর অন্তর হাইড্রোলিক পরীক্ষা করিতে হইবে:
আরও শর্ত থাকে যে, এই সময়সীমা ৪ (চার) বৎসর পর্যন্ত বর্ধিত করা যাইতে পারে; (ই) প্রত্যেক ৪ (চার) বৎসরের মধ্যে অন্যূন একবার হাইড্রোলিক পরীক্ষা:
তবে শর্ত থাকে যে, তামা বা অন্য কোনো অলৌহ ধাতু দ্বারা তৈরি সাইজিং সিলিন্ডারের মত পাতলা দেওয়ালের প্রেসার ভেসেলের ক্ষেত্রে উপ-দফা (আ) এ বর্ণিত বিধান মোতাবেক হাইড্রোলিক পরীক্ষা করিতে হইবে।
(২) তামা বা অন্য কোনো অলৌহ ধাতু দ্বারা তৈরি সাইজিং সিলিন্ডারের মত পাতলা দেওয়ালের প্রেসার ভেসেলের ক্ষেত্রে নিরাপদ কাজের প্রেসার ৫ (পাঁচ) বৎসর মূল ওয়ার্কিং প্রেসার হইতে প্রতি বৎসর শতকরা ৫% (শতকরা পাঁচ ভাগ) হারে হ্রাস করিতে হইবে এবং কোনো অবস্থাতেই ২০ (বিশ) বৎসরের অধিক অনুরূপ সিলিন্ডার ব্যবহার করা যাইবে না।
(৩) নির্মাণের তারিখ, দেয়ালের ঘনত্ব এবং নিরাপদ ওয়ার্কিং প্রেসার সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া না গেলে কারখানা ব্যবস্থাপকের নিকট হইতে প্রাপ্ত অন্য যে কোনো তথ্য গ্রহণ করিয়া অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের সহিত আলোচনাক্রমে কোনো যোগ্য ব্যক্তি সিলিন্ডারের মেয়াদ কত দিন উহা নির্ধারণ করিতে পারিবেন।
(৪) মেরামত করা হইয়াছে এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হইতে পারে এইরূপ প্রত্যেক নূতন ও পুরাতন পাতলা দেয়াল বিশিষ্ট সিলিন্ডার ব্যবহারের পূর্বে পরীক্ষা করিতে হইবে।
(৫) বায়ু চাপ অপেক্ষা বেশি চাপে পরিচালিত প্রাইম মুভারের কোনো অংশ ব্যতীত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় নাই এইরূপে নির্মিত প্রত্যেক ভ্যাসেলের সরবরাহের উৎসের সর্বাধিক অনুমোদিত ওয়ার্কিং প্রেসার বা সর্বনিম্ন প্রেসার এইরূপ পাইপ হইতে সংগ্রহ করিতে হইবে এবং উহা অন্য স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের সহিত সংশ্লিষ্ট রিডিউসিং বাল্বের সহিত সংযুক্ত থাকিতে হইবে।
(৬) পরবর্তী পরীক্ষার পূর্ব পর্যন্ত কোনো ভ্যাসেলের নিরাপত্তা সম্পর্কে পরীক্ষার সময় কোনো সন্দেহ দেখা দিলে কোনো যোগ্য ব্যক্তি ফরম-২৭ অনুযায়ী প্রেসার কম করিয়া বা সময় সময় পরীক্ষা করিয়া অথবা উভয় পন্থা অবলম্বন করা সম্পর্কে রিপোর্ট প্রদান করিয়া ভ্যাসেল চলমান রাখিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন।
(৭) মেরামত বা পুনর্বিন্যাস করা হইয়াছে এইরূপ কোনো ভ্যাসেল যোগ্য ব্যক্তির দ্বারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করিবার পূর্বে ব্যবহার করা যাইবে না।
(৮) সকল ধরনের পরীক্ষার ফলাফল ফরম-২৮ অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করিয়া যিনি পরীক্ষা করিয়াছেন তাহাকে স্বাক্ষর প্রদান করিতে হইবে এবং উহা পরিদর্শকের অবলোকনের জন্য প্রস্তুত রাখিতে হইবে।
(৯) অন্য কোথাও ব্যবহৃত হইয়াছিল এই ধরনের কোনো ভ্যাসেল প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের পূর্বে পরীক্ষা এবং এই বিধিমালা মোতাবেক রিপোর্ট প্রদান করা না হইলে উহা ব্যবহার করা যাইবে না।
(১০) নূতন কোনো ভ্যাসেলের ক্ষেত্রে উহার প্রস্তুতকারক অথবা কোনো যোগ্য ব্যক্তির নিকট হইতে সর্বোচ্চ অনুমোদিত ওয়ার্কিং প্রেসার সম্পর্কিত সার্টিফিকেট এবং যদি ভ্যাসেল বা উহার কোনো যন্ত্রাংশের পরীক্ষা করা হইয়া থাকে তাহা হইলে উহার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত ব্যবহার করা যাইবে না।
(১১) ওয়ার্কিং প্রেসার সম্পর্কিত সার্টিফিকেট পরিদর্শকের পরিদর্শনের জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখিতে হইবে এবং সার্টিফিকেট প্রাপ্ত ভ্যাসেল এইরূপ চিহ্নিত অবস্থায় রাখিতে হইবে যেন উহা সহজে সনাক্ত করা যায়।
(১২) এই বিধি অনুসারে কোনো পরীক্ষার রিপোর্টে কোনো ভ্যাসেলের নিরাপদ ব্যবহারের জন্য শর্ত আরোপ করা হইলে উক্ত আরোপিত শর্ত প্রতিপালন ব্যতীত উহা ব্যবহার করা যাইবে না।
(১৩) এই বিধি অনুসারে কোনো যোগ্য ব্যক্তি পরীক্ষার পর যদি কোনো ভ্যাসেলের সর্বোচ্চ অনুমোদিত ওয়ার্কিং প্রেসার হ্রাস করিবার রিপোর্ট প্রদান করেন বা পরীক্ষার পর যদি দেখা যায় যে, কোনো অংশে অবিলম্বে, বিলম্বে বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেরামত করা প্রয়োজন তাহা হইলে পরীক্ষা শেষ হইবার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে তিনি পরিদর্শকের নিকট রিপোর্ট প্রেরণ করিতে পারিবেন।
(১৪) এই বিধিতে বর্ণিত বিধানাবলি প্রচলিত কোনো বিধি-বিধানের বিরোধী না হইলে, উহা উক্ত বিধানের অতিরিক্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে।
(১৫) এই বিধিতে উল্লিখিত কোনো কিছু বয়লার আইন, ২০২২ (২০২২ সনের ৬ নম্বর আইন) এর অধীন কোনো প্রেসার প্ল্যান্টের ক্ষেত্রে এবং গ্যাস পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত বহনযোগ্য ভ্যাসেলের সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে, যদি থাকে, প্রযোজ্য হইবে না।
(১৬) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী যদি বিবেচনা করেন কোনো ভ্যাসেলের নির্মাণ বা ব্যবহার এইরূপ যে, উহা পরীক্ষা করা প্রয়োজনীয় বা বাস্তবসম্মত নয় তাহা হইলে তিনি এই বিধির যে কোনো বা সকল বিধান হইতে যে কোনো ভ্যাসেলকে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন।
ব্যাখ্যা: এই বিধির উদ্দেশ্য পূরণকল্পে
(ক) ‘যোগ্য ব্যক্তি’ বলিতে কোনো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিকাল বিভাগের ওয়ার্কশপ তত্ত্বাবধায়ক পর্যায়ের ব্যক্তিকে বুঝাইবে এবং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সময় সময় ঘোষিত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(খ) ‘ভ্যাসেল’ বলিতে যে কোনো ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন বদ্ধ ভ্যাসেলকে বুঝাইবে, তবে ফিড পাম্প, স্টিমপাম্প, টারবাইন ক্যানিং, কমপ্রেসার সিলিন্ডার, ভাল্ব, এয়ার ভ্যাসেল বা পাম্প, সাধারণ নমুনার পাইপ ফয়েল, সিলিন্ডার এবং ইন্টারকিং গার্ড ও রিলের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ৪৬৫ বর্গ মিটারের কম ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং বায়ুচাপের সামান্য বেশি গ্যাসহোল্ডার নিশ্চল উচ্চ স্থানসহ তরল পদার্থের ভ্যাসেল বায়ু ভর্তি এ্যাকুমুলেটর ব্যতীত হাইড্রোলিক অপারেটিং সিলিন্ডার উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
সংশ্লিষ্ট ধারা (বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯): ধারা ৩৫
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২; গেজেট ৪ অক্টোবর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি